| বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী। |
কলকাতা: রাজ্যের একের পর এক পুরবোর্ডে অস্থিরতার আবহের মধ্যেই বড় ধাক্কা খেল বিধাননগর পুরনিগম। মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী। বৃহস্পতিবার তিনি পুর কমিশনারের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত কৃষ্ণার এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েন, দলীয় অন্দরের মতভেদ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক স্তরে অস্থিরতার আবহে এই পদত্যাগকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে বিধাননগর পুরনিগমের ভবিষ্যৎ নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
প্রসঙ্গত, প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে বিধাননগর পুরনিগমের সঙ্গে যুক্ত কৃষ্ণা চক্রবর্তী। কখনও বরো চেয়ারম্যান, কখনও মেয়র হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। প্রশাসনিক দক্ষতা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সল্টলেক-রাজারহাট এলাকার উন্নয়নমূলক কাজে সক্রিয় ভূমিকার জন্য রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে গিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ভাবমূর্তি তৈরি করেছিলেন।
তবে কেন আচমকা এই সিদ্ধান্ত? সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কৃষ্ণা চক্রবর্তী জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণেই তিনি পদত্যাগ করেছেন। তাঁর কথায়, “এবার নিজের জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন। তবে মেয়রের দায়িত্ব না থাকলেও কাউন্সিলর হিসেবে মানুষের পাশে থাকব এবং এলাকার উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাব।”
দলের ভিতরে কোনও চাপ বা অভিমানের জল্পনাও উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। স্পষ্ট জানিয়েছেন, কারও বিরুদ্ধে তাঁর কোনও ক্ষোভ বা অভিযোগ নেই।
যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের কারণ ব্যক্তিগত বলেই জানানো হয়েছে, তবু বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কৃষ্ণা চক্রবর্তীর এই সিদ্ধান্ত বিধাননগরের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।