|
|
| রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, আপাতত কমছে না EMI। |
নয়াদিল্লি: সস্তা ঋণের আশায় থাকা মধ্যবিত্তের প্রত্যাশায় আপাতত জল ঢেলে দিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। জুন মাসের মুদ্রানীতি বৈঠকের শেষে রেপো রেটে কোনও পরিবর্তন না করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা। ফলে দেশের বেঞ্চমার্ক সুদের হার বা রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশেই বহাল থাকল।
টানা তিনবার অপরিবর্তিত রেপো রেট
গত ৩ জুন শুরু হওয়া রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মুদ্রানীতি কমিটির (MPC) তিন দিনের বৈঠক শেষ হয় বৃহস্পতিবার। বৈঠক-পরবর্তী সাংবাদিক বৈঠকে গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানান, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কথা বিবেচনা করেই সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: নন্দীগ্রামে বোমাবাজির ঘটনায় বড়সড় সাফল্য! মূল চক্রীকে গ্রেফতার করল NIA
EMI-তে কী প্রভাব পড়বে?
রেপো রেট এমন একটি সুদের হার, যে হারে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে স্বল্পমেয়াদে ঋণ দেয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। এই হার কমলে সাধারণত ব্যাঙ্কগুলির ঋণ গ্রহণের খরচ কমে যায়, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে হোম লোন, গাড়ির ঋণ এবং অন্যান্য খুচরো ঋণের সুদের উপর। ফলে গ্রাহকদের মাসিক কিস্তি বা EMI কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তবে এবার রেপো রেটে কোনও ছাঁটাই না হওয়ায় আপাতত ঋণগ্রহীতাদের সেই স্বস্তি মিলছে না।
কেন সুদের হার কমাল না RBI?
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ধারাবাহিকভাবে সুদের হার কমানোর পথে হেঁটেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে রেপো রেট ছিল ৬.৫০ শতাংশ। পরবর্তী কয়েকটি নীতিগত সিদ্ধান্তে মোট ১২৫ বেসিস পয়েন্ট বা ১.২৫ শতাংশ সুদের হার কমানো হয়। তার ফলেই ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ রেপো রেট নেমে আসে ৫.২৫ শতাংশে।
তবে ২০২৬ সালে এসে সেই প্রবণতায় স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। ফেব্রুয়ারি, এপ্রিল এবং জুন— টানা তিনটি মুদ্রানীতি বৈঠকেই সুদের হারে কোনও কাটছাঁট করেনি আরবিআই। ফলে বাজারে সুদের হার কমার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত স্থগিতই থাকল।
অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, দেশে মুদ্রাস্ফীতি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও অস্থির। পাশাপাশি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামা এবং বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা নিয়ে সতর্ক রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। সেই কারণেই দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিয়ে অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণের কৌশল নিয়েছে আরবিআই। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক মাসে মূল্যবৃদ্ধির গতিপ্রকৃতি, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি এবং দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার পর্যবেক্ষণ করেই ভবিষ্যতে সুদের হার সংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। ফলে আপাতত সস্তা ঋণ এবং কম EMI-এর আশায় থাকা গ্রাহকদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতেই হবে।