কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে আরও তীব্র বিদ্রোহের আগুন। খোদ দলের প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির। সোমবার নিউ টাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে আয়োজিত বৈঠকের পর প্রবীণ নেতা অরূপ রায়কে 'আসল' তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করার ঘোষণাও করেছে এই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী।
দলে 'সাংবিধানিক সংকট' ও নতুন কমিটি
বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই দলের অন্দরের ফাটলটা চওড়া হচ্ছিল। এদিন বিদ্রোহী বিধায়ক ও তৃণমূল কাউন্সিলরদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, জাভেদ খানের মতো শীর্ষস্থানীয় নেতারা৷ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে গঠিত দলের জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় দলে 'সাংবিধানিক সংকট' তৈরি হয়েছে। দলীয় গঠনতন্ত্র মেনে ৩০ সদস্যের নতুন সমান্তরাল জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নতুন কমিটিতে অরূপ রায়কে চেয়ারপার্সন এবং ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথীন ঘোষ ও সাবিনা ইয়াসমিনকে ভাইস-চেয়ারপার্সন করা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান এবং সন্দীপন সাহা। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তাদের পক্ষে অন্তত ৬০ জন বিধায়ক এবং বহু কাউন্সিলরের সক্রিয় সমর্থন রয়েছে।
তৃণমূলের তীব্র সাংগঠনিক সংকট
অন্যদিকে, বিদ্রোহী শিবিরের এই সমান্তরাল সংগঠনকে তীব্র কটাক্ষ করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী শিবির। দলের প্রবীণ নেতা কুণাল ঘোষ একে 'কমেডি শো' ও 'সার্কাস' বলে আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন, তৃণমূল কংগ্রেস মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তবে সম্প্রতি লোকসভায় দলের ২৮ জনের মধ্যে ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগ দিয়ে এনডিএ-কে সমর্থন জানানো এবং বিধানসভায় বিপুল বিধায়কের সমর্থন নিয়ে ঋতব্রতর বিরোধী দলনেতা হওয়া প্রমাণ করছে, তৃণমূলের এই তীব্র সাংগঠনিক সংকট বঙ্গ রাজনীতিতে এক অভাবনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
