ওয়াশিংটন: ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়ই নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো। তাঁর দাবি, মোজতবা খামেনেই শুধু জীবিতই নন, বরং আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলতে থাকা পর্দার আড়ালের কূটনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
মঙ্গলবার মার্কিন সেনেটের বিদেশ-বিষয়ক কমিটির শুনানিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রুবিয়ো জানান, সাম্প্রতিক বিভিন্ন গোয়েন্দা ও কূটনৈতিক সূত্রে এমন ইঙ্গিত মিলেছে যে মোজতবা খামেনেই আলোচনার বিভিন্ন স্তরে যুক্ত রয়েছেন। যদিও তাঁকে সরাসরি আলোচনার টেবিলে দেখা যায়নি, তবুও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তাঁর বার্তা আদানপ্রদান হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রুবিয়োর এই মন্তব্য সামনে আসতেই মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক উত্তেজনার আবহে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে কারা রয়েছেন, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের আগ্রহ আরও বেড়েছে।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে অনড় ওয়াশিংটন
শুনানিতে ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দেন বিদেশসচিব। তাঁর বক্তব্য, তেহরান যদি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত রাখার আশ্বাসও দেয়, তবুও শুধুমাত্র সেই কারণে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে না।
রুবিয়ো জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিই নিষেধাজ্ঞার মূল কারণ এবং সেই কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বন্ধ না হলে অর্থনৈতিক চাপ প্রত্যাহারের প্রশ্নই ওঠে না। ওয়াশিংটনের মতে, তেহরানকে প্রথমে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠা পারমাণবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।
আলোচনায় নতুন মাত্রা
মার্কিন বিদেশসচিব আরও দাবি করেছেন, চলমান আলোচনায় ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গোপন দিক নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহ দেখিয়েছে। তাঁর মতে, অতীতের তুলনায় এবার আলোচনার পরিসর অনেক বেশি বিস্তৃত এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
তবে এই সংলাপ শেষ পর্যন্ত কোনও স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাবে কি না, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। কূটনৈতিক সূত্রগুলিও পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখছে।
যুদ্ধবিরতির আবহে কূটনৈতিক তৎপরতা
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে আমেরিকা ও ইরানের সম্পর্ক নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষবিরতি কার্যকর থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে নেপথ্যে জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনা সফল হলে শুধু আমেরিকা-ইরান সম্পর্ক নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে। ফলে পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের কূটনৈতিক অগ্রগতি আন্তর্জাতিক মহলের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
