কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর উন্নয়ন প্রকল্পগুলিকে নতুন করে গতিশীল করার লক্ষ্যে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির উদ্যোগ শুরু হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই শনিবার কলকাতায় আসছেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা একাধিক রেল ও মেট্রো প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
সূত্রের খবর, বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় হবে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা রেল অবকাঠামো প্রকল্পগুলির অগ্রগতি। জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা, প্রশাসনিক ছাড়পত্রের বিলম্ব এবং কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের অভাবে বহু প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়েও সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ খুঁজতেই দুই পক্ষের এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করার বিষয়ে বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি যে সমস্ত প্রকল্প এখনও প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, সেগুলির ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রক এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি পেলে বহুদিনের অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শুধু রেল প্রকল্প নয়, কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো সম্প্রসারণ প্রকল্পগুলিও বৈঠকের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। জোকা–বিবাদী বাগ মেট্রো করিডর, নিউ গড়িয়া–বিমানবন্দর সংযোগকারী মেট্রো প্রকল্প এবং বহু প্রতীক্ষিত ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর বিভিন্ন পর্যায়ের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা হতে পারে। যেসব ক্ষেত্রে জমি সংক্রান্ত জটিলতা বা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে কাজের গতি মন্থর হয়েছে, সেগুলি নিরসনের জন্য একটি নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অবকাঠামোগত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। শিল্প, বিনিয়োগ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য রেল ও মেট্রো প্রকল্পগুলির দ্রুত বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে অশ্বিনী বৈষ্ণব ও শুভেন্দু অধিকারীর এই বৈঠক শুধুমাত্র প্রশাসনিক নয়, বরং রাজ্যের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কৌশলের দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নবান্নের বৈঠক থেকে কী বার্তা বেরিয়ে আসে এবং দীর্ঘদিনের স্থবির প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে আদৌ নতুন গতি আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।
