কলকাতা: গ্রীষ্মের দীর্ঘ দাবদাহ ও অস্বস্তিকর আবহাওয়ার পর অবশেষে স্বস্তির বার্তা মিলল আবহাওয়া দফতরের তরফে। এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ না ঘটলেও, তার আগমন আর খুব বেশি দূরে নয় বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রাজ্যে বর্ষার প্রবেশের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
হাওয়া অফিসের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ইতিমধ্যেই দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় অগ্রসর হয়েছে। ৭ জুন পর্যন্ত মৌসুমি বায়ুর বিস্তার পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের কিছু অংশ, উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের সম্পূর্ণ এলাকা এবং উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পৌঁছে গিয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যেও বর্ষার প্রভাব স্পষ্ট। নাগাল্যান্ড, মণিপুর ও মিজোরামের সর্বত্র এবং অসম, ত্রিপুরা ও অরুণাচল প্রদেশের উল্লেখযোগ্য অংশে মৌসুমি বায়ুর আগমন ঘটেছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি আরও অনুকূল হয়ে উঠবে। এর ফলে মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, তেলঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার আরও বিস্তীর্ণ এলাকায় বর্ষা অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে উত্তর-পূর্ব ভারতের অবশিষ্ট অঞ্চল এবং সিকিম-সংলগ্ন উপ-হিমালয় পশ্চিমবঙ্গেও মৌসুমি বায়ুর প্রবেশের পথ সুগম হবে।
এই পরিস্থিতিতে আবহাওয়া দফতরের অনুমান, আগামী ১০ থেকে ১১ জুনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে বর্ষার আনুষ্ঠানিক প্রবেশ ঘটতে পারে। তবে অন্যান্য বছরের মতো এবারও উত্তরবঙ্গ দিয়েই রাজ্যে মৌসুমি বায়ুর প্রথম প্রবেশ ঘটার সম্ভাবনা বেশি। পরে ধাপে ধাপে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতেও বর্ষার বিস্তার হবে।
অন্যদিকে, গত সপ্তাহান্তে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে এবং গরমের তীব্রতা থেকে সাময়িক স্বস্তি মিলেছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বর্ষা ঢোকার আগেই প্রাক-বর্ষার বৃষ্টির দাপট আরও বাড়তে পারে।
সোমবার উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের একাধিক এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েক দিন এমন আবহাওয়া বজায় থাকলে বর্ষার আগমনের পথ আরও প্রশস্ত হবে।
