কলকাতা: সপ্তাহান্তের সকালেই জোড়া ধাক্কায় কাঁপল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। একদিকে পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের বাড়ি-সহ মোট আটটি জায়গায় ম্যারাথন তল্লাশি শুরু করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। অন্যদিকে, সাতসকালেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে নাটকীয়ভাবে পৌঁছে গেল শালবনি থানার পুলিশ। দুই হেভিওয়েটের দুয়ারে কেন্দ্রীয় সংস্থা ও পুলিশের এই সমান্তরাল তৎপরতায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুর-দুর্নীতিতে মদনের ডেরায় ইডি
শনিবার ভোর হতেই ইডি-র স্ক্যানারে এলেন মদন মিত্র। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে মুড়ে ফেলে তাঁর ভবানীপুরের আদি বাড়ি, কামারহাটির ফ্ল্যাট, দক্ষিণেশ্বর এবং জোকার ঠিকানায় একযোগে তল্লাশি চালাচ্ছেন আধিকারিকরা। এছাড়া সন্তোষপুরের একটি ক্লাব ও বেলেঘাটার এক ব্যবসায়ীর বাড়ি মিলিয়ে মোট আটটি জায়গায় অভিযান চলছে।
ইডি সূত্রে খবর, পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলার যোগসূত্র খুঁজতেই এই পদক্ষেপ। উল্লেখ্য, এই মামলাতেই রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে আগেই গ্রেফতার করেছে ইডি। কাকতালীয়ভাবে, ঠিক আগের দিন শুক্রবারই বিধানসভায় সই জালিয়াতির মামলায় মদন মিত্রের বাড়িতে নোটিস দিয়ে গিয়েছিল সিআইডি। চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এবার কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই ম্যারাথন হানা কামারহাটির বিধায়কের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।
কালীঘাটে শালবনি থানার পুলিশ
মদন মিত্রের বাড়ির উত্তেজনার সমান্তরালেই টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয় কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে। সকালে হঠাৎ করেই সেখানে হাজির হয় পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি থানার পুলিশ। কলকাতা পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে, মহিলা পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে গড়া ওই দল অভিষেকের বাড়ির ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে এবং বাড়ির সদস্যদের ডাকাডাকি শুরু করে।
সিআইডি-র জোড়া নোটিসের ধাক্কা সামলানোর মাঝেই জেলা পুলিশের এই আকস্মিক আগমন ঠিক কী কারণে, তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি। তবে সপ্তাহান্তের সকালে কেন্দ্রীয় সংস্থা ও রাজ্য পুলিশের এই জোড়া অভিযানের জল কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই কড়া নজর রাখছে Starflix Bengali News সহ সমগ্র রাজনৈতিক মহল।