|
|
| ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ১৪ জুনের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার জয়, আর নজরে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, জাপানসহ দিনের বাকি লড়াই। |
স্টারফ্লিক্স বাংলা নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ১৪ জুনের ম্যাচ ঘিরে ফুটবল দুনিয়ায় উত্তেজনা তুঙ্গে। দিনের শুরুতেই বড় চমক দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। শক্তিশালী তুরস্ককে ২-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ ডি-তে দারুণ শুরু করেছে সকারুরা। অন্যদিকে দিনের বাকি ম্যাচগুলিতে মাঠে নামছে জার্মানি, কুরাসাও, নেদারল্যান্ডস, জাপান, আইভরি কোস্ট, ইকুয়েডর, সুইডেন ও তিউনিসিয়া।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে প্রতিটি ম্যাচই এবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ৪৮ দলের নতুন ফরম্যাটে শুধু গ্রুপের প্রথম দুই দল নয়, সেরা তৃতীয় স্থানাধিকারী দলগুলিও নকআউট পর্বে যাওয়ার সুযোগ পাবে। ফলে প্রথম ম্যাচ থেকেই পয়েন্ট তোলা প্রতিটি দলের জন্য বড় লক্ষ্য।
অস্ট্রেলিয়ার দুর্দান্ত শুরু, তুরস্ককে ২-০ গোলে হারাল
১৪ জুনের সবচেয়ে বড় ফল এসেছে অস্ট্রেলিয়া বনাম তুরস্ক ম্যাচে। তুরস্ক বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া কম সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের দিকে টেনে নেয়।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে গোল করেন নেস্টরি ইরানকুন্ডা এবং কনর মেটকাফ। দলের তরুণ ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স এবং রক্ষণভাগের শৃঙ্খলিত খেলাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে তুরস্ককে ম্যাচে ফিরতে দেননি।
তুরস্কের দখলে বল, কিন্তু ফল অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে
তুরস্ক দীর্ঘ সময় বল নিজেদের দখলে রাখলেও শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত ও ফিনিশিংয়ে বারবার ব্যর্থ হয়। আর্দা গুলেরের মতো তরুণ প্রতিভা মাঝমাঠে আক্রমণ তৈরি করার চেষ্টা করলেও অস্ট্রেলিয়ার সংগঠিত রক্ষণ তাদের পথ আটকে দেয়।
এই জয়ের ফলে অস্ট্রেলিয়া গ্রুপ ডি-তে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিল। অন্যদিকে তুরস্কের সামনে এখন বাকি ম্যাচগুলিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চাপ আরও বেড়ে গেল। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই পয়েন্ট হারানো তাদের নকআউটের রাস্তা কঠিন করে দিতে পারে।
জার্মানির সামনে কুরাসাও পরীক্ষা
দিনের আরেক বড় আকর্ষণ জার্মানি বনাম কুরাসাও ম্যাচ। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি সাম্প্রতিক বিশ্বকাপের ব্যর্থতা ভুলে নতুন করে শুরু করতে চাইবে। অন্যদিকে কুরাসাও বিশ্বকাপ মঞ্চে নিজেদের প্রথম উপস্থিতিকে স্মরণীয় করতে মরিয়া।
কাগজে-কলমে জার্মানি এগিয়ে থাকলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে ছোট দলগুলির চমক দেওয়ার ইতিহাস নতুন নয়। তাই জার্মানির জন্য এই ম্যাচ শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ারও সুযোগ।
নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান, দিনের সবচেয়ে নজরকাড়া ম্যাচ
১৪ জুনের সূচিতে নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান ম্যাচকে অনেকেই দিনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াই হিসেবে দেখছেন। নেদারল্যান্ডস ঐতিহ্যগতভাবে আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য পরিচিত। অন্যদিকে জাপান গত কয়েক বছরে দ্রুত, টেকনিক্যাল এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল দিয়ে বড় দলগুলিকে চাপে ফেলেছে।
জাপানের কাছে এই ম্যাচ নিজেদের শক্তি দেখানোর বড় সুযোগ। নেদারল্যান্ডসের জন্য লক্ষ্য পরিষ্কার—প্রথম ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে গ্রুপ এফ-এ নিজেদের অবস্থান শক্ত করা। দুই দলের গতি, পাসিং ও আক্রমণভাগের লড়াই ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বড় আকর্ষণ হতে পারে।
আইভরি কোস্ট বনাম ইকুয়েডর, গ্রুপ ই-তে কঠিন লড়াই
গ্রুপ ই-র আরেক ম্যাচে মুখোমুখি আইভরি কোস্ট ও ইকুয়েডর। আফ্রিকার শক্তিশালী দল আইভরি কোস্ট বিশ্বকাপে নিজেদের প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় করতে চাইবে। অন্যদিকে ইকুয়েডর দক্ষিণ আমেরিকার কঠিন বাছাই পর্ব পেরিয়ে এসেছে আত্মবিশ্বাস নিয়ে।
এই ম্যাচে শারীরিক শক্তি, গতি এবং রক্ষণভাগের স্থিরতা বড় ভূমিকা নিতে পারে। গ্রুপে জার্মানি থাকায় আইভরি কোস্ট ও ইকুয়েডর—দুই দলের কাছেই এই ম্যাচ থেকে পয়েন্ট তোলা অত্যন্ত জরুরি।
সুইডেন বনাম তিউনিসিয়া, নকআউট স্বপ্নের প্রথম ধাপ
দিনের শেষ দিকের ম্যাচে সুইডেনের সামনে তিউনিসিয়া। সুইডেন ইউরোপীয় ফুটবলের অভিজ্ঞতা ও সংগঠিত খেলার ওপর ভরসা করবে। অন্যদিকে তিউনিসিয়ার লক্ষ্য বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স তুলে ধরা।
তিউনিসিয়া দীর্ঘদিন ধরে নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন দেখছে। তাই সুইডেনের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ থেকেই পয়েন্ট পাওয়ার চেষ্টা করবে তারা। সুইডেনের আক্রমণভাগ এবং তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগের লড়াই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে।
১৪ জুনের ম্যাচ তালিকা
অস্ট্রেলিয়া ২-০ তুরস্ক: অস্ট্রেলিয়ার হয়ে গোল করেন নেস্টরি ইরানকুন্ডা ও কনর মেটকাফ।
জার্মানি বনাম কুরাসাও: গ্রুপ ই-র গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। জার্মানি জয়ে শুরু করতে চাইবে।
নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান: গ্রুপ এফ-র বড় লড়াই। দুই দলেরই নকআউটের স্বপ্নে এই ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ।
আইভরি কোস্ট বনাম ইকুয়েডর: গ্রুপ ই-তে পয়েন্টের জন্য কঠিন লড়াইয়ের সম্ভাবনা।
সুইডেন বনাম তিউনিসিয়া: গ্রুপ এফ-এ প্রথম ম্যাচ থেকেই চাপ তৈরি করার সুযোগ দুই দলের সামনে।
গ্রুপ পর্বে প্রতিটি পয়েন্ট কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ৪৮ দলের নতুন ফরম্যাটে গ্রুপ পর্ব আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছে। প্রতিটি দল তিনটি করে ম্যাচ খেলবে। গ্রুপের প্রথম দুই দল সরাসরি পরের পর্বে যাবে, পাশাপাশি সেরা তৃতীয় স্থানাধিকারী দলগুলিও সুযোগ পাবে। তাই প্রথম ম্যাচে জয় বা অন্তত পয়েন্ট তোলা অনেক দলের জন্য ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।
১৪ জুনের ম্যাচ সেই কারণেই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়া ইতিমধ্যেই বড় জয় তুলে নিয়ে বার্তা দিয়েছে। এখন নজর থাকবে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, জাপান, ইকুয়েডর, আইভরি কোস্ট, সুইডেন ও তিউনিসিয়ার পারফরম্যান্সের দিকে।