নয়াদিল্লি: ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় আমেরিকার কাছে কড়া প্রতিবাদ জানাল ভারত। মার্কিন সামরিক হামলায় তেলবাহী ট্যাঙ্কার MT Settebello-তে থাকা ৩ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর পর বিষয়টি সরাসরি মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সামনে তোলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
জয়শঙ্কর জানান, তিনি রুবিওর সঙ্গে কথা বলে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌসেনার হামলার বিষয়ে ভারতের তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে এমন প্রাণঘাতী পদক্ষেপ কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে, বেসামরিক নাবিকদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথের সুরক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে নয়াদিল্লিতে এক সিনিয়র মার্কিন কূটনীতিককেও তলব করে ঘটনার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক এই হামলাকে গভীর উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজে এ ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
কীভাবে ঘটল এই প্রাণঘাতী হামলা?
রিপোর্ট অনুযায়ী, Palau-flagged তেলবাহী ট্যাঙ্কার MT Settebello ওমান উপকূলের কাছে চলাচল করার সময় মার্কিন বাহিনী সেটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, জাহাজটি বারবার নির্দেশ অমান্য করছিল এবং ইরানি বন্দর ঘিরে মার্কিন অবরোধ ভঙ্গ করছিল। আমেরিকার দাবি, ইরানের ওপর চাপ বাড়াতেই এই অবরোধ কার্যকর করা হয়েছে।
জাহাজটিতে মোট ২৪ জন ভারতীয় ক্রু সদস্য ছিলেন। হামলার পর ২১ জনকে উদ্ধার করা হলেও প্রথমে ৩ জন নিখোঁজ বলে জানানো হয়। পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে যে ওই তিন নাবিকের দেহ জাহাজ থেকেই উদ্ধার হয়েছে। নিহত ভারতীয় নাবিকরা হলেন—চিফ ইঞ্জিনিয়ার পাটনালা সুরেশ, ডেক ক্যাডেট আদিত্য শর্মা এবং ফিটার শিবানন্দ চৌরাশিয়া। কেন্দ্রীয় জাহাজ ও বন্দরমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এই মৃত্যুকে ভারতীয় সামুদ্রিক পরিবারের জন্য গভীর ক্ষতি বলে উল্লেখ করেছেন।
ভারতের অবস্থান ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ভারত চায় দ্রুত সংলাপ ও কূটনৈতিক পথে পরিস্থিতি শান্ত হোক। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের হামলা বন্ধ হওয়া জরুরি, যাতে উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে। এই ঘটনার পর ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় ক্রু থাকা একাধিক জাহাজ উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলার মুখে পড়েছে। ফলে ভারত সরকার হরমুজ প্রণালী ও ওমান উপসাগর দিয়ে চলাচলকারী ভারতীয় নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলির ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালী ছাড়ার সময় ভারতীয় জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরান ড্রোন হামলার চেষ্টা করেছিল, যদিও তা ব্যর্থ হয়েছে। এই দাবি ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক নৌপথ হরমুজ প্রণালী। সেখানে উত্তেজনা বাড়লে তার প্রভাব শুধু ভারত নয়, গোটা বিশ্বের জ্বালানি বাজার ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর পড়তে পারে। তাই ভারত এখন একদিকে নিহত নাবিকদের পরিবারের পাশে দাঁড়াচ্ছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি আরও জোরালো করছে।