কলকাতা: রাজ্য রাজনীতিতে ফের বড়সড় চমক! এবার শাসকদলের সমস্ত পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী এবং উত্তর ২৪ পরগনার একসময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একসময়ের ‘ছায়াসঙ্গী’ হিসেবে পরিচিত ‘বালু’-র এই পদত্যাগে রাজনৈতিক মহলে তুমুল জল্পনা শুরু হয়েছে Sound।
কী কারণে হঠাৎ এই ইস্তফা?
দলীয় সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। জানা গিয়েছে, চিঠিতে তিনি মূলত তাঁর চরম শারীরিক অসুস্থতার কথাই তুলে ধরেছেন।
- শারীরিক অবস্থার অবনতি: চিঠিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তাঁর রক্তে সুগারের মাত্রা ৩৫০ পার করেছে এবং তিনি কিডনির গুরুতর সমস্যায় আক্রান্ত।
- দায়িত্ব পালনে অপারগতা: এই চরম অসুস্থতা নিয়ে দলের হয়ে সাংগঠনিক কাজ বা কোনো দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে আর একেবারেই সম্ভব নয় বলে তিনি নেত্রীকে জানিয়েছেন।
নেত্রীর আস্থার পরেও কেন এই দূরত্ব?
তৃণমূল কংগ্রেসের একেবারে জন্মলগ্ন থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম বিশ্বস্ত সেনাপতি ছিলেন জ্যোতিপ্রিয়। এমনকি রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলায় নাম জড়ানো এবং ইডি-র হাতে গ্রেফতার হওয়ার পরেও দল তাঁর পাশে ছিল। প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন যে বালুকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি দলের সাংগঠনিক রদবদলে তাঁকে তৃণমূলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ‘জাতীয় কর্মসমিতি’ বা ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটিতেও জায়গা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই বিপুল আস্থার পরেও দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তাঁর এই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত দলের অভ্যন্তরে বড় ধাক্কা বলেই মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া
শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখানো হলেও, বিরোধীরা এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এর পেছনে অন্য সমীকরণ খুঁজছেন। অনেকের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘদিন জেল খাটার পর রাজনৈতিকভাবে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তাই পরিস্থিতি বিচার করে নীরবে সরে যাওয়াই হয়তো শ্রেয় মনে করেছেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী। এই ইস্তফার ফলে উত্তর ২৪ পরগনার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন পোড়খাওয়া সংগঠককে হারালেন, তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।