শুভেন্দুর বৈঠকে ফিরহাদ-কুণাল-নয়না! বিধানসভায় বিদ্রোহের মাঝেই তৃণমূলে মহা-ভাঙন?



কলকাতা: বঙ্গে বড়সড় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে পর এবার তৃণমূলের অন্দরের ফাটল আরও প্রসস্থ হল। একদিকে বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাশ আলগা করে ৫৯ জন বিধায়কের নতুন গোষ্ঠী গঠন, আর অন্যদিকে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে একের পর এক তৃণমূল হেভিওয়েটের হাজিরা, সব মিলিয়ে কার্যত অস্তিত্বের সংকটে ঘাসফুল শিবির।


 বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দেখানো পথেই এবার হাঁটলেন ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষ এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো কলকাতার প্রথম সারির তৃণমূল নেতারা। বুধবার নবান্নের সভাঘরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা কলকাতা, হাওড়া ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে সশরীরে হাজির হন তাঁরা। মঙ্গলবারের ধর্না মঞ্চেও যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে ছিলেন, চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে নবান্নে তাঁদের এই উপস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে এক বিশাল তাৎপর্য বহন করছে। বৈঠকে বজবজের তৃণমূল বিধায়ক অশোক দেবকেও দেখা গিয়েছে।


বিধানসভায় পাল্টা চাল ঋতব্রত-সন্দীপনদের:

অন্যদিকে, দলবিরোধী কাজের অভিযোগে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা বুধবার বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে একটি চিঠি দিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘সভানেত্রী’ পদে রেখেও, দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়কের সই নিয়ে ঋতব্রতকে নতুন বিরোধী দলনেতা করার দাবি জানানো হয়েছে সেখানে। উপদলনেতা হিসেবে সাবিনা ইয়াসমিন, জাভেদ খান, শিউলি সাহা এবং সন্দীপন সাহার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। মমতা নিজে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করলেও বিদ্রোহীরা তা মানতে নারাজ।


ভাঙল সমস্ত কমিটি:

বিদ্রোহীদের এই বড়সড় চালের জবাবে তৃণমূলের তরফ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করা হয়েছে যে, দলের সমস্ত বর্তমান কমিটি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। পারফরম্যান্স বা কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে আগামী দিনে নতুন কমিটি গঠন করা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের পর তৃণমূলে আড়াআড়ি বিভাজন এখন পুরোপুরি স্পষ্ট।