|
| সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলবদলের জল্পনার মাঝেই বিস্ফোরক তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। |
কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের আঁচ ক্রমশ জোরাল হচ্ছে। এবার খোদ লোকসভার প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৈরি হয়েছে দলবদলের প্রবল জল্পনা। দিল্লিতে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শতাব্দী রায়ের দীর্ঘক্ষণ বৈঠকের খবর সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। আর এই আবহেই দলের বর্ষীয়ান নেতার বিরুদ্ধে রীতিমতো চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানালেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর নিশানায় এদিন বাদ যাননি খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
কুণালের কটাক্ষ: 'বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি'
বিজেপি নেতার বাড়িতে সুদীপের উপস্থিতির খবর পেয়েই কার্যত ক্ষোভে ফেটে পড়েন কুণাল ঘোষ। চরম কটাক্ষ করে তিনি বলেন, "বিজেপির মার্কেটিং পলিসি দারুণ। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজেপিতে যাওয়া মানে তো 'বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি' অফার! ওই পরচুলা পরা অদ্ভুত লোকটার সঙ্গে ওরা একটা ভ্রাম্যমাণ বিউটি পার্লারও ফ্রিতে পেয়ে যাবে।"
এই প্রসঙ্গ তুলেই তিনি পরোক্ষে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও বিঁধতে ছাড়েননি। কুণালের কথায়, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের নেত্রী, কিন্তু এগুলোর প্রাপ্য ছিল। উনিই এই ধরনের অযোগ্য লোকগুলোকে মাথার ওপর তুলে রেখেছিলেন। আজ তার ফল ভুগতে হচ্ছে।"
তাপস রায়ের প্রসঙ্গ তুলে আক্ষেপ
এদিন সুদীপের সমালোচনা করতে গিয়ে প্রাক্তন তৃণমূল নেতা তাপস রায়ের কথাও টেনে আনেন কুণাল। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "এই সুদীপের জন্যই তাপস রায়ের মতো একজন অত্যন্ত দক্ষ এবং ভালো নেতাকে দল ছাড়তে বাধ্য হতে হয়েছিল। হোয়াটসঅ্যাপে কেঁদে কেঁদে সুদীপ নিজেকে উত্তর কলকাতার সভাপতি পদে বসিয়েছিলেন। সজল ঘোষের বাড়ির দরজা ভাঙার পিছনেও এই নেতারাই ছিলেন। সেদিন আমি একমাত্র প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেছিলাম বলে দলের লাথি-ঝাঁটা খেয়ে আমাকেই সাসপেন্ড হতে হয়েছিল। আজ দেখুন, সময় প্রমাণ করে দিল কে দলের আসল শুভাকাঙ্ক্ষী আর কে নয়।"
দিল্লিতে সমান্তরাল রাজনীতি: বাড়ছে বিদ্রোহী সাংসদ
রাজনৈতিক সূত্রের খবর, লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১৯ জন বিক্ষুব্ধ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন, যা মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য প্রবল অস্বস্তির কারণ। গত সোমবার যখন কনস্টিটিউশন ক্লাবে 'ইন্ডিয়া' (INDIA) জোটের বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব, ঠিক সেই সময়েই মাত্র এক কিলোমিটার দূরে ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে আলাদা ব্লক তৈরির নীল-নকশা বানাচ্ছিলেন তৃণমূলের এই বিদ্রোহী সাংসদরা।
জানা গিয়েছে, প্রথমে ১৪ জন সাংসদ এনডিএ-কে (NDA) সমর্থনের চিঠিতে সই করলেও, পরে সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন আরও ৫ হেভিওয়েট— রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, ইউসুফ পাঠান, মালা রায় এবং মিতালি বাগ। এবার সেই বিদ্রোহী শিবিরে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও কার্যত নিশ্চিত হওয়ায় তৃণমূলের অন্দরের সংকট যে চরমে পৌঁছেছে, তা বলাই বাহুল্য।