![]() |
| ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন ঘিরে জল্পনা। |
কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে চরম বিপর্যয়ের পর দল যখন কার্যত ভাঙনের মুখে, ঠিক তখনই রাজপথে নামলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে দীর্ঘ প্রশাসনিক টানাপোড়েন শেষে, মঙ্গলবার ধর্মতলার ওয়াই (Y) চ্যানেলে মাত্র ২ ঘণ্টার শর্তসাপেক্ষ ধর্নায় বসল জোড়াফুল শিবির। তবে ওয়াই চ্যানেলের অস্থায়ী মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বিজেপির বিরুদ্ধে চেনা আগ্রাসী মেজাজে হুঙ্কার ছাড়ছেন, ঠিক তখনই খোদ শাসকদলের অলিন্দে ঘুরপাক খাচ্ছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, দলনেত্রীর হাতের বাইরে কি চলে যাচ্ছে দলের রাশ?
“আমাকে আটকাতে পারবেন না”, দিল্লিকে তোপ মমতার
এদিন কর্মী-সমর্থকদের ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের মাঝে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনো চক্রান্ত করেই তাঁকে দমানো যাবে না। বাংলার ১৭৭টি আসনে ‘ভোটলুট’ হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “আমাকে আটকাতে পারবেন না। আমি সংবিধান রক্ষা করব এবং বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব।” দিল্লির বিজেপি সরকার কলকাঠি নেড়ে তৃণমূলকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে অভিযোগ তুলে তাঁর তীব্র হুঁশিয়ারি, “জিয়েঙ্গে তো বিজেপি কো হাটাকে যায়েঙ্গে।” এদিন মঞ্চে তাঁর পাশে মদন মিত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ডেরেক ও’ব্রায়েনদের মতো বিশ্বস্ত সেনাপতিদের দেখা গেলেও, দলের পরিষদীয় ফাটল ঢাকার চেষ্টা ছিল স্পষ্ট।
কালীঘাটের জরুরি বৈঠক ও তলানিতে ঠেকা হাজিরা
মঞ্চের বাইরে তৃণমূলের অন্দরের আসল ছবিটা কিন্তু চরম উদ্বেগের। ধর্নামঞ্চে আসার আগেই ভাঙন রুখতে কালীঘাটের বাসভবনে দলের প্রবীণ ও ঘনিষ্ঠ নেতাদের নিয়ে এক আপৎকালীন বৈঠকে বসেন মমতা। দলীয় সূত্রে খবর, দলের অন্তত ৫০ জন বিধায়ক বর্তমানে বিক্ষুব্ধ এবং তাঁরা নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন। এর প্রমাণ মিলছে খোদ নেত্রীর ডাকা বৈঠকের পরিসংখ্যানেই। ফল প্রকাশের পর ৬ মে কালীঘাটের বৈঠকে যেখানে ৭১ জন বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন, ১৯ মে তা কমে দাঁড়ায় ৬৫-তে। আর ৩১ মে-র সাম্প্রতিকতম বৈঠকে সেই হাজিরা এক ধাক্কায় তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, উপস্থিত ছিলেন মাত্র ২০ জন বিধায়ক!
“দল হাইজ্যাক করেছে একটা কর্পোরেট সংস্থা”, বিস্ফোরক ঋতব্রত
তৃণমূলের এই জ্বলন্ত অস্বস্তিতে ঘৃতাহুতি দিয়েছেন শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সদ্য বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। দল থেকে বের হতেই নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও ভোটকুশলী সংস্থাকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। ঋতব্রতের বিস্ফোরক দাবি, “তৃণমূল পুরোপুরি হাইজ্যাক হয়ে গিয়েছে। পুরো পার্টিটা হাইজ্যাক করে নিয়েছে একটা কর্পোরেট সংস্থা। এখানে পার্টি মানে তো আইপ্যাক (i-PAC)।”
চৌঠা মে-র পর থেকে তৃণমূলের উপর থেকে নিচ, সর্বত্রই এখন শুধু বিদ্রোহের সুর। এই নজিরবিহীন অন্তর্ঘাত ও গণ-অনুপস্থিতির আবহে দাঁড়িয়ে ধর্মতলার রাজপথ থেকে মমতা আন্দোলনের ডাক দিলেও, ঘরের ভেতরের এই ভাঙন তিনি কীভাবে সামলান, সেটাই এখন বাংলার রাজনীতির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
