চাকরির নামে প্রতারণা! রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মানস ভুঁইয়া

news desk জুন ২৪, ২০২৬
আইনি সুরক্ষা চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া
আইনি সুরক্ষার আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে রাজ্যের মন্ত্রী।

কলকাতা: চাকরি দেওয়ার নামে বেআইনিভাবে অর্থ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের political মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে কোনও রকম সম্ভাব্য কড়া আইনি পদক্ষেপ বা গ্রেফতারি এড়াতে আদালতের সুরক্ষাকবচ চেয়ে সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন রাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে তাঁর আইনজীবীর পক্ষ থেকে অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। এই মামলার গতিপ্রকৃতিকে ঘিরে বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

সবং থানায় দায়ের মামলা ও অভিযোগের উৎস

সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, এই আইনি লড়াইয়ের মূল সূত্রপাত ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং থানায় দায়ের হওয়া একটি নির্দিষ্ট ফৌজদারি অভিযোগকে কেন্দ্র করে। দায়ের হওয়া অভিযোগে দাবি করা হয়েছে যে, সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার নাম করে প্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছিল। তবে নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও চাকরি না মেলায় এবং টাকা ফেরত পেতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতারিতরা আইনের শরণাপন্ন হন। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও আইনিভাবে আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং তদন্ত প্রক্রিয়া প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে मामला রুজু হওয়ার পর থেকেই মন্ত্রীর অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানান জল্পনা তৈরি হয়েছিল।

আদালতের কাছ থেকে কেন এই রক্ষাকবচের আবেদন?

আইনি মহলের একাংশের মতে, policei তদন্তের নামে যাতে তদন্তকারী সংস্থা কোনও রকম চরম বা কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে না পারে, সেই উদ্দেশ্যেই আগাম সুরক্ষাকবচ বা নো-কোরসিভ অ্যাকশনের আবেদন জানানো হয়েছে। আদালত এই আবেদন গ্রহণ করার পর অন্তর্বর্তীকালীন কোনও নির্দেশ দেয় কি না, সেটাই এখন এই মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই আবেদনের পরবর্তী শুনানির দিনক্ষণ নির্ধারিত হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

রাজনীতিতে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার চেনা ট্রেন্ড

সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যে কোনও বড় flavours বা তদন্তের প্রেক্ষিতে হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর আগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনও অনুরূপভাবে নিজেদের আইনি সুরক্ষার স্বার্থে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেই চেনা ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবার মানস ভুঁইয়ার এই পদক্ষেপ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সবং থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই এই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক অনুসন্ধান ও তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। আদালতের নির্দেশ এবং পুলিশের তদন্তের ওপরই এখন এই মামলার ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে।

এই খবরটি শেয়ার করুন