কলকাতা: শহরের বুকে ফের এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। তারাতলার ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোড সংলগ্ন এলাকায় বুধবার দুপুরে নির্মীয়মাণ একটি গোডাউনের বিশাল লোহার ছাদ আচমকা ধসে পড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন তলা সমান উচ্চতা থেকে একটি ভারী লোহার কাঠামো হুড়মুড়িয়ে নিচে ভেঙে পড়ে যায়। দুর্ভাগ্যবশত, সেই সময় ঠিক ওই ছাদের নিচেই নির্মাণকাজে ব্যস্ত ছিলেন বহু শ্রমিক। এই আকস্মিক বিপর্যয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েন একাধিক শ্রমিক এবং অনেকেই গুরুতরভাবে আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে প্রায় ৫০ জনের বেশি শ্রমিক কাজ করছিলেন। তবে ঠিক কতজন শ্রমিক আটকে পড়েছেন, তা এখনও প্রশাসনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী ও বিপর্যয় মোকাবিলা দল
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রথমে স্থানীয় মানুষেরাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় কলকাতা পুলিশ, দমকল বাহিনী এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দল। ভারী লোহার কাঠামো সরাতে জেসিবি মেশিন, গ্যাস কাটার এবং বিশেষ আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে উদ্ধার অভিযানে হাত লাগাতে সেনাবাহিনীকে পর্যন্ত তলব করা হয়েছে। একের পর এক অ্যাম্বুল্যান্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া রক্তাক্ত ও আহত শ্রমিকদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে। উদ্ধারকাজ এখনও জোরকদমে চলায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নবান্নের নজরদারি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর রাজ্য প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। স্বয়ং নবান্ন থেকে গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ও আটকে পড়া শ্রমিকদের পরিবারের সুবিধার জন্য দ্রুত একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে এবং একাধিক হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশ করেছে প্রশাসন। উদ্ধারকাজ যাতে দ্রুত শেষ করা যায়, তার জন্য কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁয়ের। অন্যদিকে, ইতিমধ্যেই বিজেপি নেতা রাকেশ সিং দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ওই গোডাউনের নির্মাণকাজের বৈধতা এবং শ্রমিকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন।
দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে তদন্ত শুরু
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই জায়গায় একটি নামী সংস্থার চায়ের গোডাউন নির্মাণের কাজ চলছিল। দুর্ঘটনার পর থেকেই নির্মাণসামগ্রীর গুণমান, বিল্ডিং প্ল্যানিং, নিরাপত্তা বিধি মেনে কাজ হয়েছে কি না এবং নির্মাণে কোনও ধরনের গাফিলতি ছিল কি না—তা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে এখনও কয়েকজনের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন, যা উদ্ধারকারীদের আরও দ্রুত কাজ করতে বাধ্য করছে। প্রশাসন সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হওয়ার পরই এই মর্মান্তিক বিপর্যয়ের আসল কারণ জানা যাবে বলে মনে করছে পুলিশ প্রশাসন।