|
|
| মমতার হাত ছেড়ে এবার কি বিদ্রোহী শিবিরে তৃণমূলের প্রবীণ নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়? |
নয়াদিল্লি: রাজ্য রাজনীতিতে ফের বড়সড় চমক! তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এবার হয়তো সবচেয়ে বড় ফাটলটি ধরতে চলেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম দীর্ঘদিনের অনুগত এবং প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় কি এবার তৃণমূলের সঙ্গ ছাড়তে চলেছেন? জল্পনা উসকে আজ সকালেই কলকাতা থেকে দিল্লি উড়ে যান তিনি এবং সরাসরি পৌঁছন বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের আরেক সাংসদ শতাব্দী রায়।
বিদ্রোহী শিবিরে বাড়ছে তৃণমূল সাংসদদের সংখ্যা
রাজনৈতিক মহলের খবর, ইতিমধ্যেই তৃণমূলের বিদ্রোহী ১৯ জন সাংসদ সই করে লোকসভার অধ্যক্ষকে চিঠি পাঠিয়ে এনডিএ (NDA)-কে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। বিদ্রোহী শিবিরে তৃণমূল সাংসদদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। দু-একদিনের মধ্যেই এই বিদ্রোহী সাংসদরা সশরীরে লোকসভার অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সেই দলেই এবার নাম লেখালেন বর্ষীয়ান নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।
ক্ষোভের নেপথ্যে কী কারণ?
লোকসভায় দীর্ঘসময় ধরে তৃণমূলের দলনেতা পদে ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। মাঝে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি কিছুটা পিছিয়ে পড়েন। এরপরই তাঁর পরিবর্তে লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা করা হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, এরপর থেকেই সংসদে এবং দলের অন্দরে বেশ কিছুটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিলেন সুদীপ। সেই জমে থাকা ক্ষোভ থেকেই এবার সুযোগ পেয়েই বিদ্রোহী শিবিরে তিনি নাম লেখালেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
১৯৯৮ সালে প্রথম তৃণমূলের টিকিটে কলকাতা উত্তর-পশ্চিম লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ২০০৯ সাল থেকে টানা তৃণমূলের টিকিটে কলকাতা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ পদে রয়েছেন। রোজভ্যালি কাণ্ডে গ্রেফতারির পরেও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন। এমনকী, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দলের অন্দরে প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও তাঁকে টিকিট দিয়েছিলেন মমতা। ফলে তাঁর এই দলবদল জল্পনা তৃণমূল নেত্রীর জন্য একটি বিশাল ধাক্কা।
নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান নিয়ে জল্পনা
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে বিদ্রোহী হওয়ার পর প্রশ্ন উঠছে তাঁর স্ত্রী তথা চৌরঙ্গীর তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে। বিধানসভায় তৃণমূলের বিধায়ক দলে ফাটল ধরলেও এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের পক্ষেই সওয়াল করেছিলেন নয়না। এমনকী, সই জাল কাণ্ডে নিজের নাম জড়ানোর পরও দলের পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। কিন্তু স্বামীর এই পদক্ষেপের পর নয়নাও বিধানসভায় বিরোধী শিবিরে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে জোর সংশয় তৈরি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৮ জুন এই বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতেই প্রথমবার বৈঠক করেছিলেন তৃণমূলের লোকসভার বিদ্রোহী সাংসদরা। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীও। সেই বৈঠকেই লোকসভায় তৃণমূলের আলাদা ব্লক তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এবার সেই ছকেই কি সুদীপের যোগদান? উত্তাল রাজ্য রাজনীতি।