রবিবারই স্বাক্ষরিত হতে চলেছে আমেরিকা-ইরান ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি, খুলবে হরমুজ প্রণালী | US Iran Peace Deal

Starflix Bengali News জুন ১৪, ২০২৬
আমেরিকা ও ইরান ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি
দীর্ঘ সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে রবিবারই স্বাক্ষরিত হতে চলেছে আমেরিকা-ইরান ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘ কয়েক মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও চরম উত্তেজনার পর অবশেষে শান্তির পথে হাঁটতে চলেছে আমেরিকা এবং ইরান। পিটিআই (PTI) সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, রবিবারই আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে চলেছে। এই চুক্তির পরপরই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন 'হরমুজ প্রণালী' (Strait of Hormuz) সকলের যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

ট্রাম্পের বড় ঘোষণা এবং পরমাণু হুঁশিয়ারি

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ এই চুক্তির কথা জানিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, "রবিবারই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং এরপরই হরমুজ প্রণালী সবার জন্য খুলে দেওয়া হবে।" তবে এই শান্তি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি তিনি কড়া বার্তাও দিয়েছেন। ট্রাম্প জানান, যদি এই চুক্তি কোনো কারণে ব্যর্থ হয়, তবে আমেরিকার কাছে এমন এক 'চূড়ান্ত বিকল্প' রয়েছে, যা আশা করি আর কখনও ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়বে না।

প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হওয়া ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির (JCPOA) তীব্র সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, "ওবামার সেই চুক্তিটি ছিল ইরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র তুলে দেওয়ার এক সহজ রাস্তা। কিন্তু আমার চুক্তিটি সম্পূর্ণ বিপরীত, এটি পরমাণু অস্ত্র না থাকার একটি ridicuল বা দুর্ভেদ্য প্রাচীর।" তিনি আরও দাবি করেন যে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে ইতিমধ্যেই নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে এবং সঠিক সময়ে আমেরিকার বি-২ বোমারু বিমান (B-2 Bombers) ব্যবহার করে অবশিষ্ট পারমাণবিক উপাদান বা 'নিউক্লিয়ার ডাস্ট' মাটির গভীরে ধ্বংস করা হবে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতি

এই ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিতে সবচেয়ে বড় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই একটি বৈদ্যুতিন বা ইলেকট্রনিক signature অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চুক্তিটি সম্পন্ন হবে। তিনি এই সফল আলোচনার জন্য আমেরিকা ও ইরান উভয়কেই ধন্যবাদ জানান এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি-কে ট্যাগ করে তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন。

ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও এই আলোচনার অগ্রগতি স্বীকার করে জানিয়েছেন যে, "ইসলামাবাদ মেমোরান্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং" (Islamabad MoU) স্বাক্ষরের একদম দোরগোড়ায় রয়েছে। তবে চূড়ান্ত চুক্তির আগে সংবাদমাধ্যমকে কোনো রকম জল্পনা ছড়ানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছেন তিনি。

বিশ্ব নেতাদের তৎপরতা

পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ শনিবার কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মহম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জসিম আল থানির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাতারের দৃঢ় সমর্থনের প্রশংসা করেন। অন্যদিকে, পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইশাক দার একাধিক আন্তর্জাতিক নেতার সঙ্গে ফোনে আলোচনা সেরেছেন। তিনি সৌদি আরবের বিদেশমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদেশ বিষয়ক প্রধান কাজা কাল্লাস, সুইজারল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী ইগনাজিও ক্যাসিস এবং মিশরের বিদেশমন্ত্রী বদর আবদেল আত্তির সঙ্গে মার্কিন-ইরান আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে কথা বলেছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত বিশ্ব বাজারকে যেমন নাড়িয়ে দিয়েছিল, তেমনই regional বা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছিল। এখন এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ফিরে আসবে বলেই আশা করছে গোটা বিশ্ব। বিশ্ব রাজনীতির প্রতি মুহূর্তের আপডেটের জন্য চোখ রাখুন Starflix Bengali News-এ।

এই খবরটি শেয়ার করুন