কলকাতা: শনিবার সাতসকালে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে নজিরবিহীন পুলিশি অভিযান। গেটের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালাল শালবনি থানার পুলিশ। আর এই মেগা অভিযানের পরেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়ে মেজাজ হারালেন তৃণমূল সাংসদ। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, পুরো বাড়ি সার্চ হয়েছে, কিন্তু এর কারণ নিয়ে তিনি কোনও জবাবদিহি করবেন না।
কী বললেন ক্ষুব্ধ অভিষেক?
দীর্ঘ তল্লাশি শেষে পুলিশ বেরিয়ে যাওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অভিষেক। কী কারণে এই তল্লাশি, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে দৃশ্যতই মেজাজ হারান তিনি। বিরক্তির সুরে তিনি বলেন, "আমি তদন্তকারী সংস্থা নই। তদন্তকারী সংস্থাকে জিজ্ঞেস করুন। তারা সার্চ করে গিয়েছে, উত্তর তারাই দেবে। আমি তদন্তকারী সংস্থার প্রতিনিধি নই। পুরো বাড়ি সার্চ হয়েছে। যা জানার তদন্তকারী সংস্থাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন।" তাঁর এই কড়া প্রতিক্রিয়াতেই স্পষ্ট, আচমকা এই তল্লাশি অভিযানে তিনি কতটা ক্ষুব্ধ।
কেন এই আকস্মিক হানা?
জানা গিয়েছে, এদিন সকালে শালবনি থানার পুলিশ আধিকারিকরা আচমকাই অভিষেকের কালীঘাটের বাসভবনে পৌঁছন। তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল কলকাতা পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। বাড়ির সদস্যদের ডাকাডাকি করে সাড়া না মেলায় শেষপর্যন্ত মূল গেটের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন আধিকারিকরা। পুলিশ সূত্রে খবর, মূলত অভিষেকের ব্যক্তিগত সহকারী (PA) ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুমিত রায়ের খোঁজেই এই অভিযান। শালবনি থানায় দায়ের হওয়া একটি নির্দিষ্ট মামলার সূত্র ধরেই সুমিতকে খুঁজছে পুলিশ। এদিকে তল্লাশির খবর পেয়েই তড়িঘড়ি সেখানে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেশ কিছুক্ষণ সেখানে থাকার পর তিনি বেরিয়ে যান।
সিআইডি জেরা ও রক্ষাকবচ
গত বৃহস্পতিবারই সই জালিয়াতি মামলায় অভিষেককে ভবানী ভবনে টানা সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জেরা করেছে সিআইডি। রাত সাড়ে ১১টায় সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন। ওই মামলাতেই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে আপাতত দু'সপ্তাহের রক্ষাকবচ পেয়েছেন তিনি। আদালত জানিয়েছে, পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে সিআইডি কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না। কিন্তু এই আইনি রক্ষাকবচের মাঝেই শনিবার শালবনি পুলিশের এই তালা ভাঙা অভিযান ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে।