প্রাতরাশের টেবিলেই মেগা ক্লাইম্যাক্স! পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ শিবকুমারের, দুপুরে ইস্তফা সিদ্দারামাইয়ার



বেঙ্গালুরু: এবার বড়সড় রদবদলের পথে দক্ষিণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য। বৃহস্পতিবার সকালের প্রাতরাশ বৈঠক শেষে সিদ্দারামাইয়ার বাসভবন থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন কর্নাটকের প্রবীণ মন্ত্রী এইচ কে পাতিল। সেখানেই তিনি বোমা ফাটিয়ে বলেন, " আজ দুপুর ৩টের সময় পদত্যাগ করবেন মুখ্যমন্ত্রী। সিদ্দারামাইয়া নিজেই আমাদের ক্যাবিনেট বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে আমরা ডি কে শিবকুমারকে নতুন মুখ্যমন্ত্রী করতে চলেছি। এবার শিবকুমারই মুখ্যমন্ত্রী হবেন।"


পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ শিবকুমারের, আবেগঘন নবান্ন

কংগ্রেসের অন্দরে ক্ষমতার এই পালাবদলকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকালে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে এক নজিরবিহীন আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মুখ্যমন্ত্রী কার্যালয় (CMO) থেকে সরকারিভাবে যে ছবিগুলি প্রকাশ্যে আনা হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে সতীর্থকে জড়িয়ে ধরে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন সিদ্দারামাইয়া। অন্য একটি ফ্রেমে ধরা পড়েছে আরও তাৎপর্যপূর্ণ দৃশ্য, কর্ণাটক কংগ্রেসের ‘সংকটমোচক’ ডি কে শিবকুমার মাথা নত করে সিদ্দারামাইয়ার পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নিচ্ছেন। রাজনীতির কারবারিদের মতে, কর্ণাটকে যে নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে, এই ছবিই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।


রাহুল-খাড়গের ফরমান, সিদ্দারামাইয়াকে দিল্লির টোপ

রাজনৈতিক মহলের খবর, গত কয়েকদিন ধরে বেঙ্গালুরু থেকে দিল্লি পর্যন্ত যে ম্যারাথন দৌড়ঝাঁপ চলছিল, তার সূত্রপাত হয়েছিল চলতি সপ্তাহের শুরুতেই। সিদ্দারামাইয়া ও শিবকুমারকে তড়িঘড়ি দিল্লিতে তলব করেছিল কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। সেখানে রাহুল গান্ধী, দলীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, কে সি বেণুগোপাল এবং রণদীপ সিং সুরজেওয়ালারা দুই নেতার সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন। সূত্রের দাবি, লোকসভা ভোটের ফলাফলের পর কর্ণাটকে দলের ভারসাম্য ধরে রাখতে সিদ্দারামাইয়াকে পদ ছেড়ে দেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দেয় হাইকম্যান্ড। বিনিময়ে তাঁকে দিল্লির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে বড় পদ এবং একটি রাজ্যসভা আসনের টোপও দেওয়া হয়েছে, যদিও সিদ্দারামাইয়া সেই প্রস্তাবে এখনই রাজি হয়েছেন কি না তা জানা যায়নি।


রাজভবনে নতুন সাসপেন্স

মুখ্যমন্ত্রী দুপুর ৩টেয় ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেও কর্নাটকের রাজভবনকে কেন্দ্র করে নতুন এক নাটক দানা বেঁধেছে। মুখ্যমন্ত্রী কার্যালয় সূত্রের দাবি, সিদ্দারামাইয়া রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলটের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছেন। কিন্তু উল্টোদিকে লোক ভবন বা রাজভবন সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সময় চাননি। এর মধ্যেই জানা গিয়েছে, রাজ্যপাল গেহলট এই মুহূর্তে ব্যক্তিগত কারণে তাঁর আদি বাড়ি ইন্দোরে রয়েছেন। ফলে রাজ্যপালের অনুপস্থিতিতে সিদ্দারামাইয়ার ইস্তফা গ্রহণ এবং ডি কে শিবকুমারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ ঠিক কবে হবে, তা নিয়ে বেঙ্গালুরুর রাজনৈতিক মহলে তীব্র ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।