নতুন এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের দাবি ইরানের! আমেরিকার বিরুদ্ধে কতটা ‘মোক্ষম অস্ত্র’ হয়ে উঠতে পারে এটি?

হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন MQ-9 Reaper ড্রোন ভূপাতিতের দাবি এবং ইরানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের ছবি
ফাইল ছবি: হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন এলাকায় মার্কিন MQ-9 Reaper ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান।

তেহরান: ভূকৌশলগত ও সামরিক টানাপড়েনের আবহেই এবার পারস্য উপসাগরে চিনের পরম মিত্র ইরানের হাতে চরমলজ্জার মুখে পড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের অবিরাম বিমান হানাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে হরমুজ প্রণালীর আকাশে আমেরিকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯ রিপার’ (MQ-9 Reaper) ড্রোনকে নিখুঁত নিশানায় ভূপাতিত করল তেহরান। আর এই অভাবনীয় প্রত্যাঘাতের নেপথ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ইরানের এক গোপন এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম,‘আরশ-ই কামানগির’ (Arash-e Kamangir), যার প্রথম যুদ্ধকালীন প্রয়োগেই কেঁপে গিয়েছে পেন্টাগন।

বিশ্বের অন্যতম সংবেদনশীল বাণিজ্যিক জলপথ হরমূজ প্রণালীর কিশম (Qeshm) দ্বীপের আকাশেই মার্কিন নজরদারি ড্রোনটিকে ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। এই ঘটনার সমান্তরালেই বন্দর আব্বাসের কাছে একটি ইরানি সামরিক ঘাঁটিতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হেনেছে মার্কিন ফৌজ। তবে দমে যাওয়া তো দূর অস্ত, পালটা আঘাত হিসেবে মার্কিন এয়ারবেসে সরাসরি হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC)।


ইরানি শব্দ ‘আরশ-ই কামানগির’-এর নেপথ্যে রয়েছে পারস্যের এক প্রাচীন বীরের লোকগাথা, যাঁর ধনুক থেকে ছিটকে যাওয়া তির নির্ধারণ করেছিল দেশের ভৌগোলিক সীমানা। বর্তমান ভূরাজনীতিতেও এই অস্ত্রকে আমেরিকার বিরুদ্ধে মোক্ষম চাল বা ‘লিভারেজ’ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে তেহরান। ফার্স নিউজ এজেন্সির দাবি, এই নতুন ইন্টারসেপ্টর সিস্টেমে অত্যাধুনিক ‘স্টিলথ’ বা রাডার-ফাঁকি দেওয়া যুদ্ধবিমানকে নিমিষে চিনে নেওয়ার গোপন প্রযুক্তি রয়েছে।


সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা ও ইসরায়েলের তীব্র বিমান হানায় ইরানের রাশিয়ার তৈরি শক্তিশালী এস-৩০০ (S-300) রাডার নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, তেহরানের আসল শক্তি লুকিয়ে আছে অন্য জায়গায়। কিং কলেজের অধ্যাপক মার্ক হিলবোর্ন মনে করেন, ইউক্রেন যুদ্ধের মতোই ইরান এখানে ‘যুদ্ধের অর্থনীতি’ বদলে দিয়েছে। পেন্টাগনের কোটি কোটি টাকার ড্রোন বা যুদ্ধবিমানকে ধ্বংস করতে ইরান ব্যবহার করছে অত্যন্ত সস্তার, অত্যন্ত গতিশীল ‘মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র’ ও ‘শাহেদ’ ড্রোন। এই চোরাগোপ্তা ও ছায়াযুদ্ধের কৌশল (Asymmetric advantage) দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতে মার্কিন বাহিনীকে ক্লান্ত ও আর্থিক দিক থেকে দেউলিয়া করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।


পশ্চিমি বিশ্ব যেখানে নিখুঁত ও আধুনিক প্রযুক্তির নিরিখে যুদ্ধ বিচার করে, ইরান সেখানে ভরসা রাখছে টিকে থাকার অদম্য ক্ষমতা ও গতিশীলতার ওপর। আর এই কৌশল যে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।