নাইরোবি: কেনিয়ার মধ্যপ্রদেশের ‘উতুমিশি গার্লস স্কুল’ (Utumishi Girls School)-এর হস্টেলে বৃহস্পতিবার ভোরে আচমকাই আগুন লেগে যায়। চোখের পলকে সেই আগুন পুরো ডরমিটরিতে ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়া এবং আগুনের লেলিহান শিখায় দমবন্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই ১৬ জন পড়ুয়ার মৃত্যু হয় এবং আরও ৭৯ জন গুরুতর জখম হয়। ঘটনার খবর পেয়েই কেনিয়ার জাতীয় পুলিশের ‘ডিরেক্টরেট অব ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন’ (DCI)-এর আধিকারিকেরা তদন্তে নামেন। বৃহস্পতিবার দিনভর স্কুলের অন্তত ৩০ জন ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর, শুক্রবার ভোরে সন্দেহভাজন আট জন ছাত্রীকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, ধৃত ছাত্রীরা পরিকল্পনা করেই হস্টেলের ডরমিটরিতে এই অগ্নিসংযোগ ঘটিয়েছে। তবে কী কারণে তারা এই চরম পদক্ষেপ নিল, তা এখনও স্পষ্ট নয় এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের মুখপাত্র জন মারেতে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তদন্তকারীরা স্কুলের পড়ুয়া, শিক্ষক এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছেন। পাশাপাশি ফরেনসিক টিম ওই স্কুলের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ বিশদভাবে পরীক্ষা করে দেখছে। মৃত ১৬ জন ছাত্রীর দেহ এতটাই পুড়ে গিয়েছে যে তাদের চেনার উপায় নেই। তাই পরিচয় নিশ্চিত করতে একটি সরকারি হাসপাতালের মর্গে দেহগুলির ডিএনএ (DNA) পরীক্ষা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, শুক্রবার সকাল থেকেই স্কুলের বাইরে উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের ভিড় জমে যায়। বাকি ছাত্রীদের কখন ছাড়া হবে কিংবা কাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, সেই বিষয়ে স্কুল বা প্রশাসন স্পষ্ট করে কিছু না জানানোয় ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়েছে অভিভাবকদের মধ্যে। প্রসঙ্গত, পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলিতে প্রায়শই স্কুল এবং হস্টেলগুলিতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত পড়ুয়া রাখা হয় এবং সেখানে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থারও চরম অভাব থাকে। কখনও বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে, আবার কখনও কড়া শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিতে পড়ুয়ারা নিজেরাই হস্টেলে আগুন লাগিয়ে দেয় বলে শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর।