মস্কোয় ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলা, লন্ডভন্ড বিদ্যুৎকেন্দ্র

মস্কোতে ড্রোন হামলার অভিযোগ এবং রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের
ফাইল ছবি: মস্কো ও সংলগ্ন এলাকায় ড্রোন হামলার অভিযোগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তাপ আরও বাড়ল।

মস্কো: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তাপ আরও বাড়ল। এ বার রাশিয়ার রাজধানী মস্কো এবং আশপাশের একাধিক এলাকায় ব্যাপক ড্রোন হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল ইউক্রেনের বিরুদ্ধে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, রাতভর দু’শোরও বেশি ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন সেনা। মূল লক্ষ্য ছিল বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো।


রাশিয়ার দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও কয়েকটি ড্রোন বসতি এলাকাতেও আছড়ে পড়ে। বিশেষ করে রস্টভ ওব্লাস অঞ্চলের দক্ষিণাংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি রুশ প্রশাসনের। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানির খবর সরকারিভাবে জানানো হয়নি।


রুশ সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, হামলার জেরে কিছু এলাকায় সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাটও দেখা দেয়। হামলার পর নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে মস্কো ও সংলগ্ন অঞ্চলে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার প্রশাসনিক মহলে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


উল্লেখ্য, মাত্র কয়েকদিন আগেই ইউক্রেনের রাজধানী কিভে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল রাশিয়ার বিরুদ্ধে। ইউক্রেনের দাবি ছিল, ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ৫০০টি ড্রোন ছোড়া হয়েছিল কিভ লক্ষ্য করে। সেই হামলায় অন্তত দু’জনের মৃত্যু হয় এবং বহু মানুষ আহত হন।


ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি জানিয়েছিলেন, কিভের অন্তত ৪০টি জায়গায় হামলা হয়েছিল। সেনাঘাঁটির পাশাপাশি আবাসিক এলাকাও নিশানা করা হয় বলে অভিযোগ। সেভচেঙ্কো জেলার একাধিক বহুতল, স্কুল এবং কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বহু বাড়ি ভেঙে পড়ে এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা শহরে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্কোয় সাম্প্রতিক এই ড্রোন হামলা ছিল সেই হামলারই পাল্টা জবাব। যদিও এখনও পর্যন্ত ইউক্রেন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয়েছে, তুরস্কগামী তাদের একটি জাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।


ক্রমাগত পাল্টাপাল্টি হামলায় ফের একবার স্পষ্ট হয়ে উঠছে, যুদ্ধ থামার কোনও ইঙ্গিত আপাতত নেই। বরং দুই দেশের সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বলেই আশঙ্কা আন্তর্জাতিক মহলের।