কলকাতা: বিধানসভা ভোটে আশানুরূপ ফল হয়নি৷ গেরুয়া ঝড়ে ধসে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের দুর্গ৷ এর পর থেকে একপ্রকার লোকচক্ষুর আড়ালেই ছিলেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। কেন বিপদের দিনে দলনেত্রীকে পাশে পাওয়া যাচ্ছে না, তা নিয়ে দলের অন্দরেই কানাঘুষো শুরু হয়েছিল। সেই ক্ষোভের আবহেই এবার কর্মীদের পাশে থাকার বার্তা দিতে জোড়া কর্মসূচির ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করল ঘাসফুল শিবির। জানা গিয়েছে, ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলে আগামী ২ জুন কলকাতার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে একদিনের প্রতীকী অবস্থান বিক্ষোভে বসছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২ জুন সকাল ১০টা থেকে এই ধরনা কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা। সভার প্রথমার্ধে দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব মঞ্চে থাকলেও, দুপুরের দিকে ধরনাস্থলে পৌঁছবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে। ইতিমধ্যেই এই কর্মসূচির অনুমতির জন্য কলকাতা পুলিশের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, তবে লালবাজারের তরফে এখনও চূড়ান্ত সবুজ সংকেত মেলেনি।
উল্লেখ্য, ক্ষমতা হারানোর পর রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপনের জন্য কলকাতার তিনটি ভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠান করার অনুমতি চেয়েছিল তৃণমূল, যা খারিজ করে দিয়েছিল কলকাতা পুলিশ। ফলে এবারের এই রাজনৈতিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে প্রশাসন কী ভূমিকা নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
অন্যদিকে, কলকাতার এই মেগা কর্মসূচির দিনই সমান্তরালভাবে জেলা সফরে বেরোচ্ছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের মনোবল বাড়াতে তিনি সরাসরি পৌঁছে যাবেন বীরভূমের নানুরে। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার পাশাপাশি তাঁদের সবরকম আইনি সহায়তা এবং আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দেবেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ। একই সঙ্গে ওখানকার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখবেন তিনি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২ জুনের এই জোড়া কর্মসূচির ওপর ভর করেই বঙ্গে পুনরায় নিজেদের জমি ফিরে পেতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস।