মমতাকে চিঠে পাঠিয়ে দলের জাতীয় মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন শান্তনু সেন



কলকাতা: বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির ধাক্কা সামলাতে না-সামলাতেই তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভ, হতাশা এবং নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ক্রমশ বিস্ফোরক আকার নিতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সেই অস্বস্তি আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দলের সর্বভারতীয় মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন চিকিৎসক-রাজনীতিক শান্তনু সেন। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো তাঁর পদত্যাগপত্রে স্পষ্ট ভাষায় তিনি লিখেছেন, “মানুষের রায়কে মাথা পেতে নিয়ে আমি তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা দিতে চাইছি।”


শুধু পদত্যাগই নয়, চিঠির প্রতিটি লাইনে উঠে এসেছে দলের বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভ এবং সাম্প্রতিক একাধিক দুর্নীতি ও বিতর্ক নিয়ে তাঁর গভীর অস্বস্তির কথা। একসময় আরজি কর হাসপাতাল সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে সরব হওয়ায় দলীয় রোষের মুখে পড়তে হয়েছিল শান্তনুকে। এমনকি দলবিরোধী মন্তব্যের অভিযোগে তাঁকে সাসপেন্ডও করা হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে তাঁকে ফিরিয়ে এনে দলের জাতীয় মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবারের চিঠিতে ফের সেই আরজি কর কাণ্ড, অভয়া মামলা, চাকরি বিক্রি-সহ একাধিক দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে কার্যত বিস্ফোরক বার্তা দিলেন তিনি।


চিঠিতে শান্তনু লেখেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলার মানুষ যখন আরজি কর কাণ্ড, অভয়া কাণ্ড, চাকরি বিক্রি-সহ নানা অনৈতিক কাজ ও দুর্নীতির জন্য আমাদের প্রত্যাখ্যান করেছেন, সেই অবস্থায় আমার মন আর কোনও ভাবেই মুখপাত্র হিসাবে এগুলোকে সমর্থন করায় সম্মতি দিচ্ছে না।”


রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তাঁর এই ইস্তফার সময় নির্বাচনও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, রাজ্যে সরকার বদলের পরদিনই নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে প্রকাশ্যে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন শান্তনু। পাশাপাশি আরজি কর কাণ্ডের তদন্তে নতুন সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছিলেন তিনি। সেই আবহেই দলীয় পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত কার্যত স্পষ্ট করে দিল, বিদায়ী শাসকদলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতে চাইছেন এই চিকিৎসক নেতা।


তৃণমূলের অন্দরে যে অস্বস্তি ক্রমশ তীব্র হচ্ছে, তার প্রমাণ মিলছে একের পর এক পদত্যাগেও। বুধবারই দলের অন্যতম পরিচিত মুখ অরূপ চক্রবর্তী পুরসভার অ্যাকাউন্ট কমিটির সদস্য পদ ছাড়েন। একইভাবে ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষও বরো চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এবার শান্তনু সেনের ইস্তফায় রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেসের ভিতরে নেতৃত্বের সংকট এবং সাংগঠনিক অস্থিরতা নতুন মাত্রা পেল।