নিমতায় ধুন্ধুমার! সৌগত রায়কে দেখে উঠল ‘চোর’ স্লোগান, ছোড়া হল কাঁচা ডিম

নিমতা থানার বাইরে সৌগত রায়কে ঘিরে বিক্ষোভ ও ডিম ছোড়ার অভিযোগের প্রতীকী ছবি
নিমতা থানার বাইরে দমদমের সাংসদ সৌগত রায়কে ঘিরে বিক্ষোভ ও ডিম ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে।

নিমতা: নিমতা থানায় একটি ব্যক্তিগত কাজ সারতে গিয়েছিলেন দমদমের সাংসদ সৌগত রায়। তিনি যখন থানার ভেতরে ছিলেন, তখন পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও বাইরে ক্রমশ জমায়েত বাড়ছিল। অভিযোগ, এলাকার ক্ষুব্ধ বাসিন্দা এবং বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা থানার সদর দরজার সামনে ব্যারিকেড তৈরি করে দাঁড়িয়ে পড়েন।


সাংসদ কাজ শেষে থানা থেকে বেরোতেই আচমকা তাঁর ওপর চড়াও হয় উত্তেজিত জনতা। প্রবীণ এই নেতার বয়স তুলে "এই বুড়ো চোর..." বলে কটূক্তি করা হতে থাকে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নিমতা থানার পুলিশকর্মীরা তড়িঘড়ি সৌগত বাবুকে নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই হুড়োহুড়ির মাঝেই ভিড়ের পেছন থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি সাংসদকে লক্ষ্য করে সজোরে কাঁচা ডিম ছুড়ে মারেন। চরম উত্তেজনার মধ্যেই পুলিশ কোনও রকমে গাড়িটিকে ভিড় থেকে বের করে নিরাপদ স্থানে পাঠিয়ে দেয়।


"পিকচার এখনও বাকি!" ক্যামেরার সামনে হুমকি বিক্ষোভকারীদের

তৃণমূল সাংসদের এই হেনস্থার ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক বঙ্গে ভাইরাল। ক্যামেরার সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে এক স্থানীয় আন্দোলনকারী স্পষ্ট বলেন, “আমি সামনে থাকলে ওনাকে জুতাপেটা করতাম। এ তো সবে ট্রেলার দেখল, পিকচার এখনও বাকি আছে!” জমানা বদলের পর শাসকদলের শীর্ষ নেতাদের ওপর সাধারণ স্তরের এই প্রকাশ্য জনরোষকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।


জনতার স্বতঃস্ফূর্ত বিদ্রোহ: দাবি বিজেপির

এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা করলেও এর পেছনে তৃণমূলের দীর্ঘদিনের ‘অপশাসন’কে দায়ী করেছে গেরুয়া শিবির। বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “গণতান্ত্রিক দেশে এই ধরনের আক্রমণকে সমর্থন করা যায় না। কিন্তু এটাও বাস্তব যে, গত ১৫ বছর ধরে সাধারণ মানুষকে যেভাবে বঞ্চিত ও অবহেলিত করা হয়েছে, এটা তারই স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ।”


ভোটে জিতিয়েছেন দমদমের মানুষ, এটা বিজেপির নোংরামি: পাল্টা তৃণমূল

অন্যদিকে, দলের প্রবীণ সাংসদের ওপর এই হামলায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে দাবি করে তৃণমূল মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ বলেন, “আমজনতা সৌগত রায়ের ওপর ক্ষুব্ধ নন। যদি তাই হতো, তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দমদমের মানুষ ওনাকে বিপুল ভোটে জিতিয়ে পুনরায় সংসদে পাঠাতেন না। আসলে রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে বিজেপিই এই নোংরা নাটক করাচ্ছে।”