গ্রেপ্তারি চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে সুজিত, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নতুন মোড়



কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর একের পর এক দুর্নীতির মামলায় তৎপর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা৷ সেই আবহেই বড় আইনি পদক্ষেপ করলেন তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা তথা প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বর্তমানে জেল হেফাজতে থাকা সুজিত এবার নিজের গ্রেপ্তারির বৈধতা নিয়েই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন।


কয়েক মাস ধরেই পুর নিয়োগ মামলায় সুজিত বসুকে ঘিরে তদন্তের জাল ক্রমশ শক্ত করছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। বিধানসভা ভোট ঘোষণার পর থেকেই তাঁর কাছে বারবার হাজিরার নোটিস পাঠানো শুরু হয়। নির্বাচনী প্রচারের ব্যস্ততা দেখিয়ে সে সময় আদালতের সুরক্ষা চেয়েছিলেন তিনি। অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ পাওয়ায় ভোটপর্ব চলাকালীন ইডির জেরার মুখে পড়তে হয়নি তাঁকে। তবে নির্বাচন শেষ হতেই পরিস্থিতি বদলায়। তদন্তে যোগ দিতে বাধ্য হন প্রাক্তন মন্ত্রী।


এরপরই সুজিতের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় সংস্থা। দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদের পর গত ১১ মে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইডির দাবি, দমদম পুরসভায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটিয়ে বহু প্রার্থীর নাম বেআইনিভাবে সুপারিশ করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে বিপুল টাকার লেনদেনও হয়েছে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। সেই আর্থিক লেনদেনের উৎস ও সম্ভাব্য ‘মানি ট্রেল’ খুঁজতে সুজিত বসুর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, সম্পত্তি এবং আর্থিক নথিপত্র খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে।


অন্যদিকে, সুজিত শিবিরের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই তাঁকে নিশানা করা হচ্ছে। সেই কারণেই গ্রেপ্তারিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার বদলের পর এই মামলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ, নিয়োগ দুর্নীতিকে সামনে রেখেই রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। ফলে আদালতে সুজিত বসুর এই আইনি লড়াই এখন শুধুই ব্যক্তিগত স্বস্তির প্রশ্ন নয়, বরং তা রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক আবহেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।