অভিষেককে দেখে ‘চোর’ স্লোগান, এলোপাথাড়ি চড়-ঘুষি! জুতো-ডিম থেকে বাঁচতে মাথায় পড়লেন হেলমেট

সোনারপুর যাওয়ার পথে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে বিক্ষোভ, কালো পতাকা ও সিআইডি নোটিশের
সোনারপুর সফরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে বিক্ষোভ এবং একই দিনে সিআইডি নোটিশ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা।

 কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর দীর্ঘ তিন সপ্তাহ কেটে গিয়েছে। শনিবার, ৩০ মে প্রথমবার রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রাস্তায় নামেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বেলেঘাটা হয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু তিনি পৌঁছনোর আগেই পাটুলির ঢালাই ব্রিজ থেকে সোনারপুরের কামরাবাদ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় কালো পতাকা ও ডিম হাতে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপি কর্মীরা।


গাড়ি ছেড়ে বাইকে উঠতেই শারীরিক হেনস্থা

রাস্তার তীব্র উত্তেজনা দেখে চারচাকা গাড়ি ছেড়ে বাইকে চেপে সোনারপুরে ঢোকার সিদ্ধান্ত নেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। আর তখনই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। বিক্ষোভকারীরা তাঁর গাড়ি ধাওয়া করার পাশাপাশি বাইকে থাকা অভিষেকের ওপর চড়াও হয় । অভিযোগ, তাঁর মাথা, ঘাড় ও গায়ে এলোপাথাড়ি চড়-ঘুষি মারা হয়, ছিঁড়ে দেওয়া হয় গায়ের সাদা শার্টের বোতাম। এর পর নিরাপত্তার খাতিরে একটি ক্রিকেট খেলার হেলমেট মাথায় পরে ডিম ও জুতো বৃষ্টির মধ্য দিয়েই পায়ে হেঁটে সঞ্জু কর্মকারের বাড়ির দিকে রওনা হন তিনি।


মাঝপথে সিআইডি নোটিশ ও কুণালের বাড়িতে বৈঠক

এই হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক ঝড়ের সমান্তরালেই শনিবার দুপুরে নাটকীয় মোড় নেয় আইনি প্রক্রিয়াও। দুপুর ১টা ২০ মিনিট নাগাদ হরিশ মুখার্জি রোডের বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’-এ বিধানসভার ‘সই-কাণ্ডের’ তদন্তে হানা দেয় রাজ্য সিআইডি-র একটি দল। যদিও সেই সময় অভিষেক তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের বাড়িতে বৈঠক করছিলেন। পরে সোনারপুর যাওয়ার মাঝপথেই কালীঘাটের বাড়ি থেকে সিআইডি-র সেই নোটিশ নিজে রিসিভ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।