'৪ তারিখের পর দিল্লির বাবারা...', চন্দ্রনাথের মায়ের মনে পড়ছে অভিষেকের সেই থ্রেট'!
"ওরা বলেছিল ৪ তারিখের পর দিল্লির বাবারা আমাদের বাঁচাতে পারবে না। ৪ তারিখ পার হতে না হতেই ওরা আমার ছেলেকে শেষ করে দিল!" মধ্যমগ্রামে গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথের এই আর্তনাদে এখন ভারী হয়ে উঠেছে চণ্ডীপুরের বাতাস। বুধবার রাতে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়কের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই শাসকদলের বিরুদ্ধে সরাসরি 'রাজনৈতিক প্রতিহিংসা'র অভিযোগ তুলছে পরিবার।
স্মৃতিতে সেই ‘হুঁশিয়ারি’
ভোটের আবহে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের মুখে বারবার শোনা গিয়েছিল ‘দিল্লির বাবা’ বা ‘৪ তারিখের পর’ কেন্দ্রীয় বাহিনীর অনুপস্থিতির কথা। প্রিয় সন্তানকে হারানোর পর সেই বয়ানগুলোকেই এখন হত্যাকাণ্ডের ‘আগাাম সংকেত’ হিসেবে দেখছেন মা হাসিরানি। তাঁর অভিযোগ, "বিজেপি ভালো ফল করেছে বলেই আমার ছেলেকে টার্গেট করা হয়েছে। শুভেন্দু বাবু মুখ্যমন্ত্রীকে (নন্দীগ্রামে) হারানোর পর থেকেই আমাদের পরিবার বিপদের মুখে দাঁড়িয়েছিল।"
‘ফাঁসি চাই না, ওরা তিলে তিলে মরুক’
একজন মা হয়েও চন্দ্রনাথের মা ঘাতকদের ফাঁসি চাইছেন না। বরং তাঁর দাবি আরও কঠোর—যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তিনি বলেন, "আমি মা হয়ে কারোর ফাঁসি চাইতে পারি না। আমি চাই ওদের যাবজ্জীবন জেল হোক। ওরা সারাজীবন সেখানে পচুক।" ছেলের ওপর যে ধরনের পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, তাকে ‘তৃণমূলের সাজানো চিত্রনাট্য’ বলেই দাবি করছেন তিনি।
আতঙ্কে পরিজন ও প্রতিবেশীরা
বুধবার রাতে যখন টিভির পর্দায় ব্রেকিং নিউজে চন্দ্রনাথের ছবি ভেসে ওঠে, তখন বিশ্বাস করতে পারেনি পরিবার। এক আত্মীয়র কথায়, "সাড়ে ১০টা নাগাদ খবরটা দেখেই আমরা ভেঙে পড়ি। ভাবতেও পারিনি এমন ভয়ংকর ঘটনা আমাদের সঙ্গে ঘটবে।" প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ মহলের অভিযোগ, যে ভঙ্গিতে গাড়ি আটকে পেশাদার কিলারদের দিয়ে অপারেশন চালানো হয়েছে, তার নেপথ্যে বড় কোনও রাজনৈতিক মাস্টারমাইন্ডের হাত রয়েছে।
বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচীর মতে, এই হত্যাকাণ্ড আসলে শুভেন্দু অধিকারীকে দেওয়া একটি ‘রক্তাক্ত বার্তা’। তবে হাসিরানি দেবীর একটাই প্রশ্ন—"দুর্ঘটনায় মারা গেলে মনকে বোঝাতাম, কিন্তু এভাবে কেন কেড়ে নেওয়া হল আমার ছেলেকে?"
.png)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন