কলকাতা: নির্বাচনের প্রচারে বিজেপির অন্যতম সবচেয়ে বড় ঘোষণা ছিল ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’। ঘাসফুল শিবিরের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে টেক্কা দিতে মাসে ৩,০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল গেরুয়া শিবির। এবার সরকার গড়তেই সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে নবান্নকে কোণঠাসা করতে কোমর বেঁধে নামল তৃণমূল। কুণাল ঘোষের স্পষ্ট বার্তা, ফর্ম তোলার নামে সময় নষ্ট না করে, নতুন মাস শুরু হতেই মহিলাদের প্রাপ্য টাকা মিটিয়ে দিক সরকার।
আবেদনপত্রের কড়া শর্তাবলি নিয়ে সুর চড়ালেন কুণাল
নতুন সরকারের তৈরি করা ১২ পাতার বিস্তারিত আবেদনপত্রটি ঘিরেই মূলত দানা বেঁধেছে বিতর্ক। ওই ফর্মে আবেদনকারীর বার্ষিক আয়, বাড়িতে চারচাকা গাড়ি রয়েছে কি না, সন্তানরা কোন স্কুলে পড়ে, এমনকি সিএএ (CAA) বা নাগরিকত্ব আইনের আবেদনের খতিয়ানের মতো একাধিক জটিল তথ্য চাওয়া হয়েছে।
এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করে কুণাল ঘোষ বলেন, "ভোটের আগে বলা হয়েছিল ক্ষমতায় এলেই ৩,০০০ টাকা দেওয়া হবে। আর এখন এত বড় ১২ পাতার ফর্ম পূরণ করানোর নামে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে। এটা আসলে গরিব মানুষকে টাকা না দিয়ে বিষয়টিকে ঝুলিয়ে রাখার একটা অজুহাত মাত্র।"
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সরলতা বনাম অন্নপূর্ণার জটিলতা
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ পাওয়ার পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত সহজ এবং সেখানে আমজনতাকে কোনও হয়রানির শিকার হতে হতো না। কিন্তু বর্তমান বিজেপি সরকার একের পর এক কঠিন শর্ত চাপিয়ে আসলে উপভোক্তাদের তালিকা ছোট করার এবং বাংলার মা-বোনেদের একটা বড় অংশকে এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার ছক কষছে। ১ জুনের মধ্যে টাকা দেওয়া শুরু না হলে বিজেপির এই মেগা প্রকল্প যে কেবলই একটি ‘নির্বাচনী জুমলা’ বা ভাঁওতা ছিল, তাও প্রমাণিত হয়ে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কুণাল।
