কলকাতা: দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডলের নিরাপত্তা বলয় থেকে শেষ রক্ষীটিকেও সরিয়ে নিল রাজ্য সরকার। ধাপে ধাপে কাটছাঁটের পর এবার বীরভূম জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির আহ্বায়কের সমস্ত সরকারি নিরাপত্তা পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে রাজ্য পুলিশের কোনও নিরাপত্তা আর পাচ্ছেন না কেষ্ট। শুধু অনুব্রতই নন, একই সঙ্গে নিরাপত্তা কমানো হয়েছে জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ এবং বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহারও। লোকসভা নির্বাচনের পর অনুব্রতর জেলমুক্তি এবং তারপর কেষ্ট-হীন বীরভূমে ক্ষমতার অলিন্দে যে রদবদল ঘটেছিল, তার মাঝে এই তিন শীর্ষ নেতার নিরাপত্তা এক লপ্তে তুলে নেওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, অনুব্রত মণ্ডল একসময় ‘ওয়াই প্লাস’ ক্যাটেগরির হেভিওয়েট নিরাপত্তা পেতেন। তাঁর বীরভূমের বাড়িতে চব্বিশ ঘণ্টা মোতায়েন থাকত হাউস গার্ড। পরবর্তীতে তাঁর সেই নিরাপত্তা বলয় সংকুচিত করে বাড়ি থেকে রক্ষী সরিয়ে নেওয়া হয় এবং তাঁর সঙ্গে সর্বক্ষণের জন্য রাখা হয়েছিল মাত্র একজন সশস্ত্র ক্যাজুয়াল সিকিউরিটি। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত থেকে সেই শেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থাটিও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয় রাজ্য পুলিশ। হঠাৎ করে সমস্ত সরকারি নিরাপত্তা উধাও হয়ে যাওয়ায় অনুব্রতর ঘনিষ্ঠ মহলে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, সরকারি রক্ষী না থাকায় এবার কেষ্টর জন্য বেসরকারি বাউন্সার বা নিরাপত্তারক্ষীর সন্ধান শুরু করেছেন তাঁর অনুগামীরা। তবে গোটা বিষয়টি নিয়ে অনুব্রত মণ্ডল নিজে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও মুখ খোলেননি।
বীরভূমের জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, গত মঙ্গলবার রাত থেকেই কাজল শেখ এবং চন্দ্রনাথ সিনহার নিরাপত্তা বলয়ে বড়সড় বদল আনা হয়। তাঁদের পাইলট কার, এস্কর্ট এবং হাউস গার্ডের মতো হাই-প্রোফাইল সুবিধাগুলি একযোগে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাচক্রে, কিছুদিন আগেই বিধানসভায় ঘর না পাওয়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূল বিধায়করা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিলেন। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কুণাল ঘোষ, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়দের সঙ্গে সুর মিলিয়ে রাজ্যের নতুন শাসকদলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন কাজল-চন্দ্রনাথেরাও। সেই রাজনৈতিক সংঘাতের আবহের মধ্যেই বীরভূমের এই তিন হেভিওয়েট নেতার ডানা ছাঁটার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা ও পারদ চড়তে শুরু করেছে রাঙামাটির জেলায়।