ইউএপিএ (UAPA)-র মতো কঠোর আইনেও কি ‘জামিনই নিয়ম, জেল ব্যতিক্রম’ নীতি খাটে? সোমবার শীর্ষ আদালতের একটি ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানাল, অবশ্যই খাটে। আর এই পর্যবেক্ষণ দিতে গিয়েই ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার মামলায় জেএনইউ-এর প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদের জামিন খারিজের নিজেদেরই আগের একটি রায় নিয়ে নজিরবিহীনভাবে প্রশ্ন তুলল খোদ সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।
সৈয়দ ইফতিখার আন্দ্রাবি নামক এক ইউএপিএ অভিযুক্তকে দীর্ঘ ৬ বছর পর জামিন দেওয়ার সময় এই তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করে বিচারপতি বি. ভি. নাগারত্ন এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়ার ডিভিশন বেঞ্চ। এই রায় দিতে গিয়েই ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে উমর খালিদ এবং শারজিল ইমামের জামিন খারিজের নির্দেশটির যৌক্তিকতা নিয়ে চরম সংশয় প্রকাশ করেছে আদালত।
কী জানাল শীর্ষ আদালতের বর্তমান বেঞ্চ?
আগের রায়ে অনীহা: বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়া স্পষ্ট জানান, উমর খালিদ এবং গুরবিন্দর সিং-এর মামলায় আগের বেঞ্চ জামিনের ক্ষেত্রে যে কড়া দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েছিল, তা বর্তমান বেঞ্চের পক্ষে "মেনে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন"।
বৃহত্তর বেঞ্চের নির্দেশ অমান্য করা যায় না: ২০২১ সালের ‘কে. এ. নাজিব’ মামলায় তিন বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চ জানিয়েছিল, বিচারে দীর্ঘ বিলম্ব এবং দীর্ঘদিন কারাবাস ইউএপিএ মামলাতেও জামিন পাওয়ার যোগ্য কারণ। শীর্ষ আদালত এদিন স্মরণ করিয়ে দেয়, একটি ছোট বেঞ্চ কোনওভাবেই বৃহত্তর বেঞ্চের সেই রায়কে লঘু বা অমান্য করতে পারে না।
বিচারের আগে বন্দিদশা যেন শাস্তি না হয়: আদালত সতর্ক করে জানিয়েছে, বিচার প্রক্রিয়া যদি বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকে, তবে বিচারের আগে বন্দিদশা (pre-trial incarceration) একপ্রকার শাস্তিতেই পরিণত হয়।
২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্রে’ যুক্ত থাকার অভিযোগে ওই বছর সেপ্টেম্বরে উমর খালিদকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্টেরই অন্য একটি বেঞ্চ তাঁর জামিন খারিজ করে দেয়। কিন্তু শীর্ষ আদালতের বর্তমান বেঞ্চের এই নজিরবিহীন পর্যবেক্ষণের ফলে, দেশের নানা প্রান্তে ইউএপিএ মামলায় দীর্ঘদিন বন্দি থাকা বিচারাধীন অভিযুক্তদের জামিন পাওয়ার নতুন আইনি পথ প্রশস্ত হলো বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।