ভোটের মুখে গ্রেফতারির আতঙ্ক! শুভেন্দুর কড়া হুঁশিয়ারির পরই হাইকোর্টে ছুটলেন ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির

TMC Candidate Jahangir Khan Moves Calcutta High Court
 
ফলতায় হাইভোল্টেজ পুনর্নির্বাচনের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে সরগরম রাজ্য রাজনী    তি! ভোটের মুখে তাঁকে গ্রেফতার করতে পারে পুলিশ— এই মারাত্মক আশঙ্কা প্রকাশ করে সোজা কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন ফলতা বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী তথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ নেতা জাহাঙ্গির খান। সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তাঁকে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন। এদিন দুপুর ২টোয় এই বহুচর্চিত মামলার শুনানি।


কেন হঠাৎ আদালতের দ্বারস্থ তৃণমূল প্রার্থী?

আদালত সূত্রে খবর, জাহাঙ্গিরের মূল অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মেটাতে তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একাধিক মিথ্যে মামলা ও এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে। তাই রাজ্য পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কতগুলো মামলা দায়ের করে রেখেছে, তা বিস্তারিতভাবে আদালতে জানাক সরকার— হাই কোর্টের কাছে সেই আরজিই জানিয়েছেন তিনি।


নেপথ্যে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি?

রাজনৈতিক মহলের মতে, জাহাঙ্গিরের এই তড়িঘড়ি আইনি রক্ষাকবচ খোঁজার নেপথ্যে রয়েছে শনিবারের একটি রাজনৈতিক সভা। গত শনিবার ফলতায় প্রচার সভা থেকে জাহাঙ্গিরকে কড়া ভাষায় নিশানা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ‘‘ভোট শেষ হোক। ওর ব্যবস্থা করব। সেই দায়িত্ব আমার।’’ মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তার পরেই তৃণমূল প্রার্থীর হাইকোর্টে ছোটায় দুয়ে দুয়ে চার করছে বিরোধী শিবির।


সেই ‘সিংহম’ বনাম ‘পুষ্পা’ দ্বৈরথ:

দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে জাহাঙ্গির খান পরিচিত নাম। সদ্য সমাপ্ত ভোটে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পর্যবেক্ষক হয়ে এসেছিলেন উত্তরপ্রদেশের কড়া আইপিএস অফিসার অজয়পাল শর্মা, যাঁকে যোগীরাজ্যের ‘সিংহম’ বলা হয়। সেই পুলিশকর্তাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে জাহাঙ্গির বলেছিলেন, ‘‘উনি সিংহম হলেও আমিও পুষ্পা... ঝুঁকেগা নহি।’’ সেই ডায়লগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছিল।


কেন ফলতায় ফের ভোট?

ভোটগ্রহণ মেটার পর বিরোধীরা ফলতার একাধিক বুথে ব্যাপক রিগিং, বুথ দখল এবং সন্ত্রাসের অভিযোগ তোলে। অভিযোগের তির ছিল জাহাঙ্গিরের দিকেই। পরিস্থিতি বিবেচনা করে কমিশন ২১ মে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়।


যদিও বিরোধীদের তোলা সমস্ত অভিযোগ পত্রপাঠ উড়িয়ে দিয়েছেন জাহাঙ্গির। শুক্রবারই নিজস্ব দলীয় কার্যালয় খুলে তিনি চ্যালেঞ্জের সুরে জানিয়েছেন, ভোটের জন্য তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকারের উন্নয়নের জবাব ইভিএমেই দেবে ফলতার মানুষ। তবে ভোটের ঠিক আগে তাঁর এই আইনি পদক্ষেপ ফলতার রাজনীতিতে নতুন করে চরম উত্তেজনা তৈরি করেছে।