CM Suvendu Adhikari Forms Anti Corruption Committee

রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর থেকেই কড়া প্রশাসকের ভূমিকায় নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবার তৃণমূল জমানার প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং মহিলাদের ওপর হওয়া অত্যাচারের শিকড় উপড়ে ফেলতে বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন।

রাজ্যে এতদিন ধরে চলে আসা সরকারি তহবিলের অপব্যবহার, 'কাটমানি' সংস্কৃতি এবং প্রান্তিক মহিলাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা খতিয়ে দেখতে দুটি উচ্চপর্যায়ের আলাদা তদন্ত কমিটি বা কমিশন গঠন করেছে নতুন রাজ্য সরকার। আগামী ১ জুন থেকেই এই দুটি তদন্ত কমিটি পুরোদমে তাদের কাজ শুরু করে দেবে।

তদন্তের দায়িত্বে কারা? নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দুই কমিটির কাজ যাতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও আইনসম্মতভাবে হয়, তা নিশ্চিত করতে কলকাতা হাইকোর্টের দুজন অত্যন্ত পরিচিত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে এই গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই দুই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রাজ্যের মুখ্যসচিবের (CS) কাছে লিখিত প্রতিশ্রুতি (Written Commitment) জমা দিয়েছেন।

১. প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও সরকারি তহবিল লোপাট তদন্ত কমিটি: সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা নয়ছয় এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নেওয়া কাটমানি রুখতে 'জিরো টলারেন্স' নীতি নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

  • নেতৃত্বে: এই উচ্চপর্যায়ের কমিটির নেতৃত্বে থাকছেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু।

  • রিপোর্ট ও পদক্ষেপ: আগামী ১ জুন কাজ শুরু করার মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে কমিটিকে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে দেশের নতুন ফৌজদারি আইন অর্থাৎ ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (BNS)-এর ধারা অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

২. নারী নির্যাতন রুখতে বিশেষ কমিটি: তফশিলি জাতি (SC), তফশিলি উপজাতি (ST) এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মহিলাদের ওপর হওয়া নির্যাতনের ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে নতুন সরকার।

  • নেতৃত্বে: নারী নির্যাতন সংক্রান্ত এই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়।

  • সদস্য সচিব: এই বিশেষ কমিটির ‘মেম্বার সেক্রেটারি’ (Member Secretary) পদে থাকছেন রাজ্যের অত্যন্ত সৎ ও নির্ভীক আইপিএস (IPS) দময়ন্তী সেন।

কীভাবে কাজ করবে এই নারী সুরক্ষা কমিটি? নির্যাতিতাদের আইনি প্রক্রিয়া সহজ করতে কার্যপদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন,

"অভিযোগ জানানোর জন্য প্রান্তিক অঞ্চলের অসহায় মানুষকে কষ্ট করে কলকাতায় ছুটে আসতে হবে না। সাধারণ মানুষ যাতে নিজেদের জেলা বা গ্রাম থেকেই সহজে অভিযোগ নথিভুক্ত করতে পারেন, তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।"

প্রয়োজনে কমিটির সদস্য ও আধিকারিকরা সরাসরি ঘটনাস্থলে গিয়ে ‘স্পট ভিজিট’ (Spot Visit) বা সরেজমিনে তদন্ত করবেন। এর ফলে নির্যাতিতা মহিলারা কোনও রকম ভয় বা চাপ ছাড়াই সরাসরি তাঁদের অভিযোগ কমিশনের সামনে তুলে ধরতে পারবেন।