রাস্তায় নমাজ পড়ার বিরুদ্ধে ফের একবার কড়া অবস্থান স্পষ্ট করল উত্তরপ্রদেশ সরকার। রবিবার লখনউতে একটি জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) কড়া ভাষায় জানিয়ে দেন, ধর্মীয় কারণ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের রাস্তা আটকানো বা যানজট সৃষ্টি করা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। দরকারে 'শিফটে' নমাজ পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
'ভালোবাসায় না মানলে অন্য পথ' এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট শেয়ার করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে লেখেন, "আপনাদের নমাজ পড়ার থাকলে শিফটে পড়ুন... আমরা প্রথমে ভালোবাসায় বোঝাব। কিন্তু যদি না মানেন, তবে আমরা অন্য পথ অবলম্বন করতে বাধ্য হব।"
नमाज पढ़नी है, आप शिफ्ट में पढ़िए...
— Yogi Adityanath (@myogiadityanath) May 18, 2026
प्यार से मानेंगे ठीक है, नहीं मानेंगे तो दूसरा तरीका अपनाएंगे... pic.twitter.com/zDoz6YiqTZ
রাস্তা চলাচলের জন্য, অবরোধের জন্য নয় লখনউয়ের জনসভায় একটি ভিডিও শেয়ার করে যোগী বলেন, "আমাকে অনেকেই জিজ্ঞেস করেন, উত্তরপ্রদেশে কি সত্যিই রাস্তায় নমাজ পড়া বন্ধ? আমি বলি, একদমই হয় না—গিয়ে নিজের চোখে দেখে আসুন। রাস্তা তৈরি হয়েছে যাতায়াতের জন্য। কেউ কি চৌরাস্তায় এসে ট্রাফিক আটকে তামাশা করতে পারে? সাধারণ মানুষের পথ আটকানোর অধিকার কারও নেই।"
'শিফটে' নমাজ পড়ার পরামর্শ ভিড় সামলানোর বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা, "অনেকে বলেন যে আমাদের সংখ্যা অনেক বেশি, তাহলে কী করব? আমরা বলি, শিফটে পড়ুন। বাড়িতে জায়গা না থাকলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা করুন। কিন্তু রাস্তায় অযথা ভিড় বাড়ানো যাবে না। সরকারের আইন সবার জন্য সমান। আমরা নমাজ পড়তে বারণ করছি না, কিন্তু রাস্তায় নয়।"
বাংলা বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসেও এই ইস্যুটি তুলেছিলেন যোগী আদিত্যনাথ। হুগলির একটি র্যালিতে তিনি বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে (TMC) নিশানা করে বলেছিলেন, বাংলায় রাস্তায় নমাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়, আর হিন্দু উৎসবের আগে কার্ফু জারি হয়।
যোগী সরকারের এই কড়া নিয়মের পর উত্তরপ্রদেশের রাস্তায় এখন আর আগের মতো যানজট চোখে পড়ে না বলেই দাবি প্রশাসনের।