![]() |
| ফাইল ছবি: তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের জল্পনা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা। |
কলকাতা: তৃণমূলের অন্দরে ছাইচাপা আগুন এবার প্রকাশ্য দাবানলের রূপ নিচ্ছে। জোড়াফুল শিবিরের অন্দরের এই নজিরবিহীন সমীকরণকে এবার সামনে নিয়ে এলেন দল থেকে সদ্য বহিষ্কৃত জাতীয় মুখপাত্র রিজু দত্ত। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, দলনেত্রীর তিন দশকের তৈরি সাম্রাজ্যের রাশ আলগা হওয়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। সব ঠিক থাকলে দলের প্রায় ৫০ জন বিধায়ক এবার মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে দাবি করতে পারেন, লক্ষ্য তাঁদের দলীয় প্রতীক ‘জোড়াফুল’। ১৯৯৮ সালের পর ঘাসফুল শিবিরের এমন গভীর অস্তিত্ব সংকট এর আগে দেখেনি বাংলার রাজনৈতিক মহল।
ইন্ডিয়া টুডে ডিজিটাল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিজু দত্ত জানান, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে নবনির্বাচিত বিধায়কদের সিংহভাগই চেয়েছিলেন সদ্য বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। কিন্তু তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে শীর্ষ নেতৃত্ব শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম চাপিয়ে দেয়। এই চরম অসন্তোষের জেরেই অন্তত ৫০ জন বিধায়ক এখন এককাট্টা। পরিসংখ্যান বলছে, ২৯৪ আসনের বিধানসভায় তৃণমূলের বর্তমান আসন সংখ্যা ৮০। দলত্যাগ বিরোধী আইনের ফাঁদ এড়াতে গেলে বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর অন্তত ৫৩ জন (দুই-তৃতীয়াংশ) বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন। রিজু দত্তর দাবি সত্যি হলে, জাদুকরী সেই সংখ্যার একেবারে দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে বিদ্রোহীরা।
এই ক্ষোভের আগুনে আরও ঘি ঢেলেছে সোমবার রাতের এক গোপন বৈঠক। কুণাল ঘোষের অভিযোগ, দক্ষিণ কলকাতার এক বিলাসবহুল হোটেলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা বেশ কয়েকজন বিধায়কের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন, যেখানে মেদিনীপুরের এক দাপুটে মহিলা বিধায়কও উপস্থিত ছিলেন। যদিও ঋতব্রত এই দাবি উড়িয়ে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তবে দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর তোপ কমেনি। তাঁর সাফ কথা, “তৃণমূলে কথা বলার কোনও স্বাধীনতা নেই। দলটা এবার পুরোপুরি বিলুপ্তির পথে।”
পরিস্থিতি যে হাতের বাইরে, তা স্পষ্ট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাতেও। এক ফেসবুক লাইভে তিনি অভিযোগ করেন, “বিধায়কদের ওপর পুলিশি চাপ দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু লোকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।” অন্যদিকে, কুণাল ঘোষকে কার্যত হাতজোড় করে ‘বিবেক’-এর দোহাই দিয়ে বিক্ষুব্ধদের কাছে ফেরার আকুতি জানাতে দেখা গিয়েছে। রবিবারের দলীয় বৈঠকে ৬০ জন বিধায়কের গরহাজিরা এবং ৩১ মে-র বৈঠকে সংখ্যাটা মাত্র ২০-তে নেমে যাওয়া স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে বিদ্রোহ কতটা গভীরে। এখন মহারাষ্ট্রের একনাথ শিন্ডে পর্বের পুনরাবৃত্তি বাংলায় ঘটে কি না, সেটাই দেখার।
