|
|
| ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ বা ‘পুশ-ইন’ ঘিরে বাড়ছে কূটনৈতিক উত্তেজনা। |
ঢাকা: দীর্ঘদিনের বন্ধু রাষ্ট্র ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের মাঝে এবার নতুন কাঁটা হয়ে দাঁড়াল সীমান্ত বিরোধ। সঠিক আন্তর্জাতিক নিয়ম ও আইনি প্রক্রিয়াকে অগ্রাহ্য করে শত শত মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ঢাকার পক্ষ থেকে এই নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন সীমান্তে মানবিক সংকট তৈরি হচ্ছে, তেমনই দুই প্রতিবেশী দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
কূটনৈতিক দ্বন্দ্বে রূপ নিল সীমান্ত সমস্যা
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB)-এর দাবি অনুযায়ী, মাত্র তিন দিনের (৪ থেকে ৬ জুন) ব্যবধানে ১০টি সীমান্তবর্তী জেলা জুড়ে অন্তত ১৮ বার বলপূর্বক অনুপ্রবেশ বা ‘পুশ-ইন’-এর চেষ্টা চালানো হয়েছে। এর শিকার হয়েছেন নারী ও শিশু-সহ প্রায় ২০০ জন অসহায় মানুষ। বিজিবি-র কড়া পাহারার কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বঙ্গবাড়ি সীমান্ত-সহ একাধিক জিরো পয়েন্টে বর্তমানে বহু মানুষ খোলা আকাশের নিচে আটকে রয়েছেন। অভুক্ত অবস্থায় বৃষ্টিতে ভিজে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে খবর।
আরও পড়ুন: আলিপুরে জেলা পরিষদ ভবনে বিধ্বংসী আগুন! পুড়ল ৩টি তলা, নামানো হলো দমকলের ১০টি ইঞ্জিন
বিএসএফ-এর দাবি, এই মানুষগুলি অনুপ্রবেশকারী এবং বাংলাদেশেরই বাসিন্দা। তবে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের সাফ কথা, ভারতের দাবি সত্যি হলেও উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ ও দ্বিপাক্ষিক যাচাইকরণ (Verification) ছাড়া কাউকে এভাবে একতরফা ফেরত পাঠানো আন্তর্জাতিক রীতিনীতির পরিপন্থী।
অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বনাম সার্বভৌমত্বের লড়াই
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের রাজনীতিতে 'অবৈধ অনুপ্রবেশ' অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা। কিন্তু বাংলাদেশের পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য কোনো একতরফা সিদ্ধান্তকে মেনে নেওয়া যায় না। সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তা ইশফাক ইলাহী চৌধুরী এবং মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এই ধরনের পদক্ষেপ দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাসে বড় ফাটল ধরাবে এবং জিরো লাইনে হিংসার বাতাবরণ তৈরি করবে।
দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রকাশ্যে 'বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক' ও আঞ্চলিক সহযোগিতার কথা বললেও, গত কয়েকদিনের ঘটনাপ্রবাহ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে পর্দার আড়ালে এক গভীর অনাস্থা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ বিষয়টিকে এখন আর সাধারণ সীমান্ত সমস্যা হিসেবে দেখছে না, বরং এটিকে দেশের সার্বভৌমত্ব ও মানবাধিকারের পরীক্ষা হিসেবে দেখছে। বিষয়টি আরও বড় রাজনৈতিক সংকটে রূপ নেওয়ার আগেই কূটনৈতিক স্তরে এর স্থায়ী সমাধান খোঁজার চাপ বাড়ছে দুই দেশের ওপরই।