সই-জালিয়াতি কাণ্ডে এবার শোভনদেবের বাড়িতে সিআইডি, জেরা বর্ষীয়ান বিধায়ককে

news desk জুন ২০, ২০২৬

 


কলকাতা: শনিবার সকালে আচমকাই ভবানীপুরে তৃণমূলের প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে হাজির সিআইডি (CID)। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচন ঘিরে সই জালিয়াতির যে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে, সেই হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্তেই এদিন বর্ষীয়ান নেতার মুখোমুখি হন রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দারা।

সূত্রের খবর, প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হয়। তবে গোয়েন্দাদের প্রশ্নের মুখে পড়ে পাল্টা সুর চড়িয়েছেন শোভনদেবও। তাঁর স্পষ্ট দাবি, যাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়েছে, তাঁদেরও জেরা করা উচিত।

তদন্তে ২০০ শতাংশ সহযোগিতার বার্তা

সিআইডি আধিকারিকরা বেরিয়ে যাওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বালিগঞ্জের বিধায়ক জানান, তদন্ত প্রক্রিয়ায় তিনি ২০০ শতাংশ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। কিন্তু তিনি একটি পাল্টা প্রশ্নও ছুঁড়ে দেন:

  • রেজোলিউশন পাসের দিন তো সকলেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
  • তাই যাঁরা আজ সই জালের অভিযোগ তুলে জলঘোলা করছেন, বৃহত্তর তদন্তের স্বার্থে সিআইডি-র উচিত তাঁদেরও মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা।

কীভাবে শুরু এই বিতর্কের?

বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পদ ঘিরেই রাজ্য রাজনীতিতে এই অভূতপূর্ব বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। পুরো ঘটনাটি নিচে তুলে ধরা হলো:

  • মনোনয়ন ও অভিযোগ: তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্ষীয়ান শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কেই এই পদের জন্য মনোনীত করেছিলেন। দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সই করা একটি চিঠি স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে জমা দেওয়া হয়। কিন্তু স্পিকার সেই চিঠি খারিজ করে দেন। এরপরই চিঠিতে থাকা অভিষেকের সই জাল বলে শোরগোল পড়ে যায়।
  • বিধায়কদের বহিষ্কার: তৃণমূলেরই দুই বিধায়ক, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা স্পিকারের কাছে সই জালিয়াতির লিখিত অভিযোগ জমা দেন। দলবিরোধী এই পদক্ষেপের জন্য অবিলম্বে তাঁদের বহিষ্কার করে রাজ্যের শাসকদল।

জল গড়িয়েছে হাইকোর্টে

দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও ৫৯ জন বিধায়কের সমর্থন আদায় করে স্পিকারের কাছে নিজেকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে দাবি করে চিঠি দেন ঋতব্রত। স্পিকার তাঁকে স্বীকৃতিও দেন। এরপরই নড়েচড়ে বসে রাজ্য সরকার এবং সই কাণ্ডের তদন্তভার সিআইডি-র হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এই হাই-প্রোফাইল মামলায় ইতিমধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি। একাধিক তৃণমূল বিধায়কের হাতের লেখার পরীক্ষামূলক নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সিঙ্গল বেঞ্চে আপাতত কোনো স্থগিতাদেশ না মেলায়, ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করেছেন তিনি। আগামী সপ্তাহেই এই হাই-ভোল্টেজ মামলার শুনানির দিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

এই খবরটি শেয়ার করুন