শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে বড়সড় রদবদল। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই শিলিগুড়ি পুরনিগমের (SMC) মেয়র পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দিলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা গৌতম দেব। ইতিমধ্যেই পুর কমিশনারের কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র পৌঁছে গিয়েছে এবং পুরসভা সূত্রে খবর, সেই ইস্তফাপত্র গ্রহণও করা হয়েছে।
ইস্তফার নেপথ্যে কী কারণ?
হঠাৎ করে এই পদত্যাগের খবর সামনে এলেও, রাজনৈতিক মহলের মতে বিষয়টি একেবারে অপ্রত্যাশিত ছিল না। বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁর পদত্যাগ নিয়ে জল্পনা চলছিল।
- মেয়র পারিষদদের সাথে বৈঠক: দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি পুরনিগমের মেয়র পারিষদদের (MIC) নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠক করেন গৌতম দেব। সেখানেই তিনি প্রথম পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
- সিদ্ধান্তে অবিচল: উপস্থিত মেয়র পারিষদদের একাংশ তাঁকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু বর্ষীয়ান এই নেতা নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন এবং শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে পদ ছাড়েন।
‘ছন্দপতন’-এর মন্তব্যে জল্পনা তুঙ্গে
গৌতম দেবের ইস্তফার চেয়েও রাজ্য রাজনীতিতে বেশি শোরগোল ফেলেছে পদত্যাগের পর তাঁর একটি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য। ইস্তফা দেওয়ার পর তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, "বর্তমান রাজ্য সরকারের সব কাজই আমি করেছি। এর পরেও আমার মনে হয়েছে কোথাও ছন্দপতন হচ্ছে। কোনও বিদ্বেষের মনোভাব নিয়ে এই পদ ছাড়ছি না। নতুন রাজ্য সরকারকে শুভেচ্ছা।" তাঁর মুখে হঠাৎ এই 'ছন্দপতন' এবং 'নতুন রাজ্য সরকারকে শুভেচ্ছা' বার্তার অন্তর্নিহিত রাজনৈতিক অর্থ কী, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই কাটাছেঁড়া শুরু করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নাগরিক পরিষেবা নিয়ে উদ্বেগ
এদিকে, উত্তরবঙ্গ জুড়ে শুরু হয়েছে প্রবল বৃষ্টিপাত। আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কতা অনুযায়ী এই দুর্যোগ আরও কয়েকদিন চলতে পারে। এমন একটি সংকটজনক পরিস্থিতির মধ্যে খোদ মেয়রের আকস্মিক পদত্যাগে শিলিগুড়ির সাধারণ মানুষের মনে নাগরিক পরিষেবার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। পুরসভা কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেয়, এখন সেটাই দেখার।