ওয়াশিংটন: হোয়াইট হাউসের অন্দরে তেহরান নীতি নিয়ে যখন তুমুল বিতর্ক চলছে, ঠিক তখনই এক বিস্ফোরক বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করলেন, ইরান আসলে আমেরিকার সঙ্গে একটি বড়সড় চুক্তি বা ‘ডিল’ করতে ছটফট করছে। মধ্যপ্রাচ্যে জারি থাকা যুদ্ধবিরতির তোয়াক্কা না করে যখন দু-পক্ষের মধ্যে নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধ শুরু হয়েছে, তখন ট্রাম্পের এই দাবি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে। একই সঙ্গে নিজের দেশের সমালোচক ও বিরোধী নেতাদেরও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া একটি দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প সরাসরি দাবি করেন, ঘরে-বাইরের সমস্ত রাজনৈতিক চাপকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তেহরানের সঙ্গে আমেরিকার এই আলোচনা সফল হবেই।
ট্রাম্পের কথায়, "ইরান সত্যিই একটি রফা করতে চাইছে, যা শেষ পর্যন্ত আমেরিকা এবং আমাদের সহযোগী দেশগুলির জন্য অত্যন্ত লাভজনক প্রমাণিত হবে।"
আগামী নভেম্বর মাসে মার্কিন কংগ্রেসের নির্বাচন। তার আগে ইরান ইস্যু নিয়ে ট্রাম্পের ওপর প্রবল চাপ তৈরি করছেন ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান দলের একাংশ। সেই সমালোচকদের কড়া জবাব দিয়ে ট্রাম্প লিখেছেন, "ডেমোক্র্যাট এবং কিছু আপাতদৃষ্টিতে অদেশপ্রেমিক রিপাবলিকানরা কি এটা বোঝেন না যে, পিছন থেকে যখন একদল মানুষ অনবরত নেতিবাচক ঘ্যানঘ্যান করতে থাকে, তখন শান্তিতে কাজ করা বা কূটনীতি চালানো কতটা কঠিন? কেউ বলছেন আরও দ্রুত চলো, কেউ বলছেন ধীরে চলো, কেউ বলছেন যুদ্ধ করো, কেউ বলছেন যুদ্ধ থামাও।"
পোস্টের শেষে অবশ্য পরিস্থিতি ঠান্ডা করার বার্তা দিয়ে তিনি যোগ করেন, "সবাই একটু শান্ত হয়ে বসুন এবং রিল্যাক্স করুন। শেষ পর্যন্ত সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে, যেমনটা সবসময় হয়।"
ট্রাম্পের এই আশাবাদী বার্তার উল্টো ছবি ধরা পড়েছে যুদ্ধক্ষেত্রে। আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় আমেরিকার একটি মূল্যবান ড্রোনে ইরান আঘাত হানার পর, গত সপ্তাহান্তে ইরানের একাধিক সেনা ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন ফৌজ। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড স্পষ্ট জানিয়েছে, আমেরিকান ফাইটার জেটগুলি ইরানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ও ড্রোন কন্ট্রোল স্টেশন গুঁড়িয়ে দিয়েছে। পালটা জবাবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস দাবি করেছে, তারা আমেরিকার একটি বিমান ঘাঁটিতে প্রত্যাঘাত হেনেছে। এর মাঝেই কুয়েতের আকাশেও একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হানা রুখে দিয়েছে সে দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ইতিমধ্যে ইরান ও লেবাননে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তার ওপর ইরানের তরফে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে আগুন লেগেছে।
ট্রাম্প ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও, দুই পক্ষের আসল লড়াই যে জায়গায় আটকে রয়েছে তা হল-
পরমাণু বিবাদ: ট্রাম্পের প্রধান শর্ত হলো, ইরানকে তাদের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের স্টকপাইল ব্যবহার করে পারমাণবিক বোমা তৈরি করা থেকে আটকাতে হবে। যদিও তেহরান এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে।
অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা: ইরানের ওপর আমেরিকার চাপানো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি তেলের বিপুল রাজস্বের মুক্তি নিয়ে আলোচনা বর্তমানে সম্পূর্ণ থমকে বা ডেডলক হয়ে রয়েছে।
তেহরানের কড়া জবাব: ইরানের প্রধান আলোচক মহম্মদ বাঘের ঘালিবফ স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, "আমেরিকাকে কোনওভাবেই বিশ্বাস করা যায় না। যতক্ষণ না ইরানি জনগণের অধিকার সম্পূর্ণ নিশ্চিত হচ্ছে, ততক্ষণ তেহরান কোনও চুক্তিতে সই করবে না।" এর মাঝেই খবর, ট্রাম্প নাকি ইরানকে আরও একটি কঠিন শান্তি চুক্তির খসড়া পাঠিয়েছেন।
