উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল, সমীকরণ মেপে তৈরি শুভেন্দুর নতুন ‘টিম’! একনজরে দেখুন তালিকা

 


কলকাতা: রাজ্যে সরকার গঠনের এক মাস পূর্ণ হতেই প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার পথে বড় পদক্ষেপ করল বিজেপি সরকার। সোমবার রাজভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন করে ৩৫ জন মন্ত্রী শপথ নিলেন। এর ফলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা ৫ থেকে বেড়ে দাঁড়াল ৪০।


গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৮টি জিতে সরকার গঠন করেছিল বিজেপি। এরপর ৯ মে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং আরও চারজন মন্ত্রী শপথ গ্রহণ করেন। সেই সময় সীমিত সংখ্যক সদস্য নিয়েই প্রশাসনিক কাজ শুরু হয়েছিল।


সোমবারের সম্প্রসারণে উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল, দক্ষিণবঙ্গ ও শহরাঞ্চল, সব এলাকার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। রাজ্যপাল আর এন রবি নতুন মন্ত্রীদের গোপনীয়তার শপথবাক্য পাঠ করান। সূত্রের খবর, শপথ গ্রহণের পরই বিভিন্ন দফতরের দায়িত্ব বণ্টনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।


নতুন মন্ত্রিসভায় মোট ৪০ সদস্যের মধ্যে ১২ জন পূর্ণমন্ত্রী, ৩ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এবং ২৫ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন দীপক বর্মন, তাপস রায়, শংকর ঘোষ, মনোজ ওঁরাও, অর্জুন সিং, গৌরীশংকর ঘোষ, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, স্বপন দাশগুপ্ত, কল্যাণ চক্রবর্তী, দুধকুমার মণ্ডল, অজয় পোদ্দার এবং অরূপকুমার দাস।


স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ইন্দ্রনীল খাঁ, মালতী রাভা রায় এবং রাজেশ মাহাতো। অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রীদের তালিকায় জায়গা পেয়েছেন একাধিক নতুন ও তরুণ মুখ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জুয়েল মুর্মু, ড. হরেকৃষ্ণ বেরা, আনন্দময় বর্মন, অশোক দিন্দা, নদিয়ারচাঁদ বাউড়ি, বিশাল লামা, দিবাকর ঘরামি, শান্তনু প্রামাণিক, পূর্ণিমা চক্রবর্তী, মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, গার্গী ঘোষ দাস, উমেশ রাই, কৌশিক চৌধুরী, ভাস্কর ভট্টাচার্য, কলিতা মাজি, বিরাজ বিশ্বাস, দীপঙ্কর জানা, সুমনা সরকার এবং অমিয় কিস্কু।


রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রথম এক মাসে সীমিত সংখ্যক মন্ত্রীকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব সামলাতে হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু এবং নিশীথ প্রামাণিকের ওপর প্রশাসনিক চাপ ছিল উল্লেখযোগ্য। নতুন মন্ত্রীদের অন্তর্ভুক্তির ফলে সেই চাপ অনেকটাই কমবে এবং বিভিন্ন দফতরের কাজ আরও দ্রুত গতিতে এগোবে বলে মনে করা হচ্ছে।


রাজ্য সরকারের দাবি, এই সম্প্রসারণ শুধু সংখ্যাগত বৃদ্ধি নয়, বরং প্রশাসনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই করা হয়েছে। এখন নজর থাকবে নতুন মন্ত্রীদের হাতে কোন কোন দফতরের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় এবং আগামী দিনে সরকারের কর্মপরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়িত হয় তার ওপর।