ট্রাম্পের অনুরোধ ওড়াল ইজরায়েল, পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে যুদ্ধবিরতি ভাঙল ইরান



তেহরান: পশ্চিম এশিয়ায় ফের অশান্তির আবহ ঘনীভূত হয়েছে। ইজরায়েলের লেবানন অভিযানের জেরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে। সাম্প্রতিক বিমান হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইজরায়েলের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তেহরান। ফলে সম্প্রতি গড়ে ওঠা যুদ্ধবিরতির পরিবেশ কার্যত প্রশ্নের মুখে পড়েছে।


কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, লেবাননে ইজরায়েলের সামরিক তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানান। তবে এরপরও হামলা অব্যাহত থাকায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় ইরান। তেহরানের বক্তব্য, লেবানন ও গাজায় সামরিক অভিযান চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কোনও সমঝোতা বা শান্তি চুক্তির প্রশ্নই ওঠে না।


বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থানের নেপথ্যে রয়েছে হিজবুল্লাহ। লেবাননভিত্তিক এই সংগঠনকে ইরান তাদের আঞ্চলিক কৌশলের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে দেখে। ফলে হিজবুল্লাহর ওপর হামলাকে তেহরান শুধু একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নয়, বরং নিজেদের নিরাপত্তা স্বার্থের ওপর আঘাত হিসেবেই বিবেচনা করছে।


১৯৮০-র দশক থেকে ইরান ও হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংগঠনটি লেবাননের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। সেই কারণেই হিজবুল্লাহকে দুর্বল করার যেকোনও প্রচেষ্টা ইরানের কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়।


এদিকে সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক বাজারেও। মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের একাংশ মনে করছেন, পরিস্থিতি আরও জটিল হলে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ফলে কূটনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন— সংঘাত কি আরও বাড়বে, নাকি শেষ মুহূর্তে আলোচনার পথেই সমাধান মিলবে?