পাটনা: আইনি জট থেকে সাময়িক নিষ্কৃতি পেলেন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় শিক্ষক তথা ডিজিটাল মাধ্যমের পরিচিত মুখ ফয়সাল খান, যিনি আপামর ছাত্রছাত্রীদের কাছে ‘খাঁন স্যার’ (Khan Sir) নামেই সমধিক পরিচিত। তাঁর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক একটি গুলি চালনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে ফৌজদারি মামলা রুজু হয়েছিল, সেই মামলায় এবার খাঁন স্যারকে গ্রেফতারির হাত থেকে সাময়িক আইনি সুরক্ষাকবচ দিল পাটনার জেলা আদালত।
মঙ্গলবার জেলা জজের এজলাসে খাঁন স্যারের আগাম জামিনের আর্জি নিয়ে শুনানি পর্ব সম্পন্ন হয়। সওয়াল-জবাব শেষে বিচারক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আধিকারিকেরা খাঁন স্যারকে জিজ্ঞাসাবাদ করার বিষয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীন। তবে এই অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশিকা বলবৎ থাকা পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি বা অন্য কোনও ধরনের শাস্তিমূলক ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না। প্রসঙ্গত, এর আগের শুনানিতে আদালতের তরফে পুলিশের কাছ থেকে মামলার কেস ডায়েরি ও সংগৃহীত যাবতীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ তলব করা হয়েছিল। খাঁন স্যারের আইনজীবীর যুক্তি ও বক্তব্য খতিয়ে দেখার পরেই আদালত এই স্বস্তির আদেশ দেয়। তবে এই মামলার অপর এক সহ-অভিযুক্ত রওশন আনন্দের জামিনের আবেদনের ওপর রায়দান আপাতত স্থগিত রেখেছে আদালত।
কোচিং সেন্টারে তাণ্ডব ও ভাইরাল ভিডিওর বিতর্ক
তদন্তকারীদের সূত্র অনুযায়ী, গত ২ জুন পাটনায় খাঁন স্যারের পরিচালিত ‘খান গ্লোবাল স্টাডিজ’ (KGS) প্রাঙ্গণে ১৫-২০ জনের একটি সশস্ত্র দুষ্কৃতী দল আকস্মিক চড়াও হয়। অভিযোগ, তারা ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি লক্ষ্য করে পাথর বৃষ্টি করে। এই ঘটনার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে (যার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি), যেখানে ওই কোচিং সেন্টারের দুজন নিরাপত্তাকর্মীকে শূন্যে গুলি ছুড়তে দেখা যায়।
ভিডিওটি নজরে আসতেই সক্রিয় হয়ে ওঠে স্থানীয় কদমকুয়া থানার পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তড়িঘড়ি ওই দুই রক্ষীকে আটক করা হয় এবং গুলি চালনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র দুটি বাজেয়াপ্ত করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরবর্তীতে নির্দিষ্ট ধারায় এফআইআর (FIR) দায়ের করে ওই দুই নিরাপত্তা কর্মীকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
ব্যবসায়িক শত্রুতা বনাম সাজানো নাটক
ঘটনার পর থেকেই এই মামলাটি ঘিরে তীব্র চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। খাঁন স্যারের প্রাথমিক দাবি ছিল, পেশাগত ও ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জেরে একটি প্রতিপক্ষ কোচিং ইনস্টিটিউট অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তাঁর সংস্থায় এই হামলা চালিয়েছে। উল্টোদিকে, সেই প্রতিদ্বন্দী সংস্থার সদস্যরা খাঁন স্যারের বিরুদ্ধেই পাল্টা অভিযোগ এনেছেন। নিরাপত্তাকর্মীদের গুলি চালানোর ভিডিওটিকে হাতিয়ার করে তাঁদের দাবি, সম্পূর্ণ ঘটনাটি আসলে একটি পূর্বপরিকল্পিত নাটক এবং খাঁন স্যার নিজের ব্র্যান্ডের প্রচার বা অন্য কোনও উদ্দেশ্যে নিজেই নিজের প্রতিষ্ঠানে এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন। খাঁন স্যার অবশ্য এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত এখনও জারি রয়েছে।