পহেলগাঁও-কাণ্ডে ‘হামাস’ কানেকশন! পাকিস্তান-যোগ খতিয়ে দেখছে এনআইএ

পহেলগাঁও হামলার তদন্ত, এনআইএ চার্জশিট এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গি যোগসূত্রের ছবি
ফাইল ছবি: পহেলগাঁও হামলার তদন্তে আন্তর্জাতিক যোগসূত্রের দিক খতিয়ে দেখছে এনআইএ।


নয়াদিল্লি: ভারতের ভূখণ্ডে হওয়া কোনো জঙ্গি হামলার তদন্তে এই প্রথমবার আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী ‘হামাস’-এর নাম জড়াল। পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার চার্জশিটে এনআইএ জানিয়েছে, মূল অভিযুক্ত সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা (LeT) এবং তার শাখা ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF)-এর সঙ্গে অন্যান্য বৈশ্বিক জঙ্গি সংগঠন, যেমন জৈশ-ই-মহম্মদ, আল কায়েদা এবং হামাসের কোনো কার্যক্ষমতা সংক্রান্ত সংযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে।


ভারতের কোনো প্রথম সারির তদন্তকারী সংস্থার চার্জশিটে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে হামাসের সংযোগের কথা উল্লেখ করা অত্যন্ত নজিরবিহীন ঘটনা বলে মনে করছে ভূ-রাজনৈতিক মহল।


তদন্তে উঠে আসা মূল বিষয়গুলি


এনআইএ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই তদন্তের একটি বড় উদ্দেশ্য হল জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে উসকানি দিতে বা অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ করতে আন্তর্জাতিক কোনো নেটওয়ার্ক পর্দার আড়াল থেকে ভূমিকা পালন করেছিল কি না, তা খুঁজে বের করা।

পহেলগাঁও হামলার পর ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির হাতে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, বিগত কয়েক মাসে পাকিস্তানের লস্কর-ই-তৈবা ও জৈশ-ই-মহম্মদের মতো নিষিদ্ধ সংগঠনগুলির সঙ্গে হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বের যোগাযোগ ও বৈঠক আগের তুলনায় অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে।


রণকৌশলে ৭ অক্টোবরের ছায়া? 

নিরাপত্তা সংস্থাগুলি খতিয়ে দেখছে যে, পহেলগাম হামলার রণকৌশল, পরিকল্পনা এবং লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনের সঙ্গে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইজরায়েলে হওয়া হামাসের হামলার কোনো মিল রয়েছে কি না। প্রাথমিক তদন্তে এই দুই হামলার ধরণ এবং আক্রমণের কৌশলে বেশ কিছু সাদৃশ্য পাওয়া গিয়েছে।


তদন্তকারীরা বর্তমানে এই হামলার পেছনে থাকা আর্থিক লেনদেনের উৎস (Financial Trails), ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ এবং সীমান্তপারের নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখছেন। এনআইএ-র চার্জশিট থেকে এটুকু পরিষ্কার যে, পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী ও বৈশ্বিক উগ্রপন্থী সংগঠনগুলির মধ্যে গড়ে ওঠা এই সম্ভাব্য অক্ষ বা যোগসূত্রটি খুঁজে বের করাই এখন ভারতীয় গোয়েন্দাদের মূল লক্ষ্য।