বিশ্বশান্তির প্রশ্নে বাংলাদেশ আপসহীন! সেনাকুঞ্জে বড় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

Bangladesh PM Tarique Rahman at UN Peacekeepers Day
আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঢাকা: বিশ্বমঞ্চে শান্তি, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা এবং মানবতার পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান সর্বদা সুদৃঢ় ও আপসহীন থাকবে বলে স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রতি বছর ২৯ মে বিশ্বব্যাপী এই দিবসটি পালিত হলেও, পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির কারণে বাংলাদেশে চলতি বছরের ১০ জুন অনুষ্ঠানটি উদযাপিত হলো।

শহীদ শান্তিরক্ষীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও বড় ঘোষণা

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বশান্তি রক্ষা করতে গিয়ে জীবন উৎসর্গকারী বীর শান্তিরক্ষীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, “১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত জাতিসংঘের বিভিন্ন মিশনে বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী শাহাদাত বরণ করেছেন। এই শহীদদের আত্মত্যাগ শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, সারা বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষের কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।” অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ২০১৫ সালে সুদানে জাতিসংঘ মিশনে দায়িত্ব পালনকালে নিহত ৬ জন বাংলাদেশি সেনার বিধবা স্ত্রীদের হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন এবং আহত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদেরও পুরস্কৃত করেন।

আরও পড়ুন: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ বিতর্ক! জোরপূর্বক মানুষ ঠেলে দেওয়া ঘিরে চরমে কূটনৈতিক উত্তেজনা

হাইতি মিশনে যাচ্ছে বাংলাদেশ, প্রশংসায় নারী শান্তিরক্ষীরা

শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ঈর্ষণীয় সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের ২ লক্ষাধিক সদস্য ৪৩টি দেশের প্রায় ৬৩টি মিশনে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে বিশ্বের ১০টি মিশনে ৫,৮৬০ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী কর্মরত আছেন এবং খুব শীঘ্রই হাইতিতে একটি নতুন মিশনে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তিনি নারী শান্তিরক্ষীদের ভূমিকার প্রশংসা করে জানান, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে নিয়োজিত শান্তিরক্ষীদের প্রায় ১১ শতাংশই নারী, যা দেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের।

ষড়যন্ত্র ও অতীত অধ্যায় নিয়ে কড়া বার্তা

সশস্ত্র বাহিনীকে দেশের স্বাধীনতা, সম্মান ও সাহসের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “একটি Uniformed Force-এর সম্মান ও মর্যাদা বজায় রাখার জন্য পেশাদারিত্ব, ঐক্য, শৃঙ্খলা এবং চেইন অব কমান্ড বজায় রাখা অপরিহার্য।” অতীতে সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে নানা বিভ্রান্তি তৈরি ও ইমেজ নষ্ট করার অপচেষ্টার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মতো আঘাতের কথা উল্লেখ করেন। তিনি যোগ করেন, “ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী বাংলাদেশে অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের সমস্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার এক ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে।”

সাইবার যুদ্ধ ও এআই-এর যুগে আধুনিকায়নের তাগিদ

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং দ্রুত প্রযুক্তির পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এখন প্রথাগত যুদ্ধের পাশাপাশি সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-এর অপব্যবহার, মিডিয়াতে অপপ্রচার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে শান্তিরক্ষীদের। তাই আমাদের আগামী দিনের মিশনগুলিকে আরও আধুনিক এবং প্রযুক্তি-নির্ভর হতে হবে।” এই লক্ষ্যে সরকার সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশকে আধুনিকীকরণের কাজ ধাপে ধাপে সম্পন্ন করছে বলে তিনি জানান।