ক্যানসার হওয়ার ৫ বছর আগেই মিলবে সতর্কবার্তা! যুগান্তকারী রক্ত পরীক্ষা আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের

New blood test to predict lung cancer years early
ফুসফুসের ক্যানসার হওয়ার ৫ বছর আগেই সতর্কবার্তা দেবে নতুন রক্ত পরীক্ষা। (প্রতীকী ছবি)

লন্ডন: ক্যানসারের মতো মারণরোগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, যখন রোগ ধরা পড়ে তখন অনেকটাই দেরি হয়ে যায়। কিন্তু এবার চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক যুগান্তকারী আবিষ্কার করলেন বিজ্ঞানীরা। এমন একটি রক্ত পরীক্ষা (Blood Test) নিয়ে গবেষণা চলছে, যা ফুসফুসের ক্যানসার (Lung Cancer) হওয়ার প্রায় ৫ বছর আগেই সতর্কবার্তা দিতে পারবে! এর ফলে রোগ শুরুর আগেই তা নির্মূল করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী চিকিৎসা মহল।

কীভাবে কাজ করবে এই রক্ত পরীক্ষা?

যুক্তরাজ্যের 'ফ্রান্সিস ক্রিক ইনস্টিটিউট'-এর চার্লস সোয়ানটনের নেতৃত্বাধীন একদল গবেষক এই অসাধ্য সাধন করেছেন। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান পত্রিকা 'সেল' (Cell)-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা মানুষের রক্তের প্লাজমায় থাকা ১৪টি বিশেষ প্রোটিনের (14-protein signature) একটি প্যাটার্ন শনাক্ত করেছেন। এই প্রোটিনগুলো বিশ্লেষণ করেই চিকিৎসকরা বুঝতে পারবেন যে ভবিষ্যতে ওই ব্যক্তির ফুসফুসে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কতটা।

যুক্তরাজ্যের প্রায় ৪৮ হাজার মানুষের রক্তের নমুনা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা মেশিন-লার্নিং মডেলটি তৈরি করা হয়েছে। দেখা গিয়েছে, যাঁরা ভবিষ্যতে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের রক্তে অন্তত ৫ বছর আগেই এই ১৪টি প্রোটিনের মাত্রায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন এসেছিল।

আরও পড়ুন: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ বিতর্ক! জোরপূর্বক মানুষ ঠেলে দেওয়া ঘিরে চরমে কূটনৈতিক উত্তেজনা

দূষণ, প্রদাহ এবং ক্যানসারের সম্পর্ক

গবেষকরা দেখেছেন, বায়ুদূষণ এবং ধূমপানের কারণে ফুসফুসে যে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন (Inflammation) তৈরি হয়, তা ক্যানসারের অন্যতম বড় অনুঘটক। এই ১৪টি প্রোটিন মূলত সেই প্রদাহেরই আগাম জানান দেয়। অর্থাৎ, ফুসফুসে টিউমার তৈরি হওয়ার অনেক আগেই রক্তের এই প্রোটিনগুলো বিপদসংকেত দিতে শুরু করে। এমনকি যাঁরা জীবনে কখনো ধূমপান করেননি, তাঁদের ক্ষেত্রেও বায়ুদূষণজনিত ক্যানসারের ঝুঁকি এই পরীক্ষার মাধ্যমে ধরা পড়বে।

আগামী দিনের চিকিৎসা

এই আবিষ্কারের পাশাপাশি ক্যানসার প্রতিরোধে 'ক্যানাকিনুমাব' (Canakinumab) নামক একটি ওষুধের কার্যকারিতাও খতিয়ে দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। প্রাথমিক তথ্যে দেখা গিয়েছে, যাঁদের রক্তে ওই ১৪টি প্রোটিনের মাত্রা বেশি, তাঁদের এই ওষুধ প্রয়োগ করলে ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যায়! যদিও এই ওষুধের দাম এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই পরীক্ষা এখনই সাধারণ মানুষের জন্য বাজারে আসছে না। তবে ভবিষ্যতে এই একটি মাত্র ব্লাড টেস্ট এবং সঠিক প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা যে ক্যানসার প্রতিরোধে বড়সড় বিপ্লব আনতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।