|
| আলিপুরে জেলা পরিষদ অফিসে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই প্রচুর EVM। |
কলকাতা: আলিপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা পরিষদ অফিসে ঘটে গেল এক বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড। এই ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতর। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে মজুত থাকা প্রচুর ইভিএম (EVM)। এটি নিছকই কোনও দুর্ঘটনা, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে গভীর কোনও অন্তর্ঘাত? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ইতিমধ্যেই চার সদস্যের একটি 'স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম' (SIT) বা সিট গঠন করেছে লালবাজার।
কীভাবে ছড়াল আগুন? দানা বাঁধছে রহস্য
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী, বুধবার সকালে ১০ তলা এই বহুতলের ৪ তলায় প্রথম আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন বিধ্বংসী আকার ধারণ করে এবং ৫ তলাতেও ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ২ ঘণ্টার আপ্রাণ চেষ্টায় দমকল বাহিনী যখন আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে, ঠিক তখনই আচমকা বিল্ডিংয়ের ৯ তলায় নতুন করে আগুন দেখতে পাওয়া যায়! যা দ্রুত ১০ তলাতেও ছড়িয়ে পড়ে।
রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে এখানেই—৬, ৭ এবং ৮ তলা সম্পূর্ণ অক্ষত থাকা সত্ত্বেও, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন বহুতলে আগুন সোজা ৯ ও ১০ তলায় গেল কী করে? আগুন লাগার সময়ে বিল্ডিংয়ের কোনও দফতর খোলা ছিল না, ফলে কোনও এসি-ও চলছিল না। তাহলে এই আগুনের উৎস কী?
পুড়ে ছাই EVM, তদন্তে ফরেন্সিক ও SIT
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হলো বিল্ডিংয়ের দশ তলা। ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের সময় এই দশ তলাতেই স্ট্রং রুম করা হয়েছিল। আলিপুর সদর এলাকার একাধিক কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ EVM রাখা ছিল এখানে। সেগুলো আগুনে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় জেলা প্রশাসনের অন্দরে সন্দেহ ক্রমশ জোরাল হচ্ছে।
শুক্রবার সকালেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নবগঠিত SIT-এর সদস্য এবং ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। তারা ঘটনাস্থল থেকে একাধিক নমুনা সংগ্রহ করেছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার অগ্নিকাণ্ডের সময়ে বিল্ডিংয়ে সুইপার ও ক্লিনিং এজেন্ট সহ মোট ৪ জন কর্মী ছিলেন। আগুন লাগায় তাঁরা ছাদে পালিয়ে যান এবং সেখানে আটকে পড়েন। পরে দমকল তাঁদের নিরাপদে উদ্ধার করে। এই অগ্নিকাণ্ডে ওই ৪ জনের কোনও ভূমিকা রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।