![]() |
| ফাইল ছবি: গোবরডাঙ্গা স্টেশনে হকার উচ্ছেদ ঘিরে ব্যবসায়ী ও রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা। |
গোবরডাঙ্গা: রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার আসতেই রেল স্টেশনগুলির ভোলবদল করতে বড়সড় অভিযানে নেমেছে রেল কর্তৃপক্ষ। আর এই আমূল পরিবর্তনের প্রথম দফাতেই স্টেশন চত্বর থেকে অবৈধ দোকান ও হকার উচ্ছেদে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র শোরগোল। হাওড়া, শিয়ালদা বা দমদমের মতো মেগা স্টেশন তো বটেই, রেলের এই উচ্ছেদ অভিযান থেকে রেহাই পাচ্ছে না ছোট স্টেশনগুলিও। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো শিয়ালদা-বনগাঁ শাখার গোবরডাঙ্গা স্টেশন, যা ঘিরে এই মুহূর্তে তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
শিয়ালদা-বনগাঁ শাখার ৩টি প্ল্যাটফর্ম বিশিষ্ট গোবরডাঙ্গা স্টেশনে গত কয়েক দশক ধরে গজিয়ে উঠেছিল অসংখ্য ছোট ছোট দোকান। এদিন সকালে রেলের উচ্ছেদকারী দল বুলডোজার নিয়ে সেই দোকানগুলি ভাঙতে গেলে হকার ও ব্যবসায়ীদের চরম বিক্ষোভের মুখে পড়ে তারা।
রেললাইনে মাথা দিয়ে বিক্ষোভ
উচ্ছেদের হাত থেকে নিজেদের রুটিরুজি বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত চরম পথ বেছে নেন আন্দোলনকারীরা। কোনো উপায় না পেয়ে সটান রেললাইনে শুয়ে পড়েন বিক্ষোভকারী হকাররা। বেশ কয়েকজন মহিলা এবং প্রবীণ ব্যবসায়ীকে সরাসরি রেললাইনে মাথা দিয়ে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁদের এক দফা দাবি, "কোনো অবস্থাতেই দোকান ভাঙা যাবে না"। ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, এই ছোট ছোট দোকানগুলির ওপর ভর করেই তাঁদের সংসার চলে, রেল কর্তৃপক্ষ তাঁদের পেটে লাথি মারছে। দোকান ভেঙে দিলে তাঁদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকবে না।
দমদমেও একই চিত্র, অনড় রেল
উচ্ছেদ ঘিরে এই রণক্ষেত্রের ছবি শুধু গোবরডাঙা নয়, এর আগে দমদম জংশন স্টেশনেও একই নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেখানেও দোকান ভাঙার প্রতিবাদে এক মহিলা ব্যবসায়ী রেললাইনে শুয়ে পড়েছিলেন। পরে বাকিরা বুঝিয়ে তাঁকে সরিয়ে নিলেও রেল কর্তৃপক্ষ কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিল। বিশাল পুলিশ ও আরপিএফ (RPF) বাহিনী দিয়ে স্টেশন মুড়ে ফেলে দমদমের বহু অবৈধ দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
উচ্ছেদ ঘিরে গরম বাংলার রাজনীতি
রেল স্টেশনের এই ব্যাপক হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে বাংলার রাজনৈতিক পারদ চড়চড় করে বাড়ছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমান ডবল ইঞ্জিন সরকারের কাছে এই বিষয়ে কিছুটা ‘মানবিক’ হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, উচ্ছেদের বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে বামেরা। হকারদের সঙ্গে নিয়ে স্টেশনে স্টেশনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন বাম নেতৃত্ব। তাঁদের সাফ দাবি, পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবস্থা না করে কোনোভাবেই হকার উচ্ছেদ করা চলবে না। এই তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিরোধিতার জেরে কোনো কোনো স্টেশনে সাময়িকভাবে থমকে গিয়েছে রেলের এই উচ্ছেদ অভিযান।
