কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের জল্পনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। সূত্রের দাবি, দলের একাংশের সাংসদ লোকসভার স্পিকারের কাছে পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠীর স্বীকৃতি চেয়ে আবেদন করেছেন। ওই আবেদনে ১৯ জন সাংসদের স্বাক্ষর রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
দলীয় সূত্রে খবর, আবেদনপত্রে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, দীপক অধিকারী (দেব), রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, ইউসুফ পাঠান-সহ একাধিক সাংসদের নাম রয়েছে। যদি এই দাবি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে লোকসভায় তৃণমূলের সাংগঠনিক অবস্থানের উপর তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনও পর্যন্ত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
জানা গিয়েছে, বিদ্রোহী শিবির আপাতত অন্য কোনও রাজনৈতিক জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি। তাঁদের বক্তব্য, বাংলার স্বার্থে সংসদে স্বাধীন অবস্থান বজায় রেখেই কাজ করতে চান তাঁরা। অন্যদিকে, এই পরিস্থিতির জেরে দলীয় প্রতীক ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভবিষ্যতে আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
এদিকে তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যও রাজনৈতিক জল্পনা আরও উসকে দিয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন। পাশাপাশি একটি মামলায় অভিষেকের পক্ষে আর সওয়াল না করার সিদ্ধান্তও নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
সব মিলিয়ে, তৃণমূলের অন্দরের এই টানাপোড়েন আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের।