কলকাতা: সরকারি ব্যবস্থায় গতি আনা এবং কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা সুনিশ্চিত করতে বড়সড় সংস্কারের পথে হাঁটল রাজ্য সরকার। নবান্নের পক্ষ থেকে একটি কড়া বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, এবার থেকে সমস্ত সরকারি দফতরে বায়োমেট্রিক হাজিরা বাধ্যতামূলক হচ্ছে। আগামী ১৫ জুন থেকে প্রথম দফায় নবান্নে এই নিয়ম চালু হবে এবং ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত সরকারি অফিসে ধাপে ধাপে ফেস রিকগনিশন ডিভাইস বসানোর কাজ শেষ করা হবে। সরকারের এই কড়া অবস্থানের পক্ষে সওয়াল করে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল স্পষ্ট বলেন, "প্রতি কর্মচারীকে কাজের জন্য দায়বদ্ধ থাকতে হবে। সময় মতো আসতে হবে, সময় মতো যেতেও হবে।"
নতুন নিয়মের বেড়াজালে ‘ইন-আউট’ টাইমিং
ফেস রিকগনিশন বা বায়োমেট্রিক: নবান্নের প্রতিটি কর্মীর প্রতিদিনের উপস্থিতি ও প্রস্থান ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল নথিতে সংরক্ষণ করা হবে।
দেরি এবং অনুপস্থিতির পরিমাপ: সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে ১১টার মধ্যে হাজিরা দিলে তা ‘লেট’ বা বিলম্ব হিসেবে ধরা হবে। আর ঘড়ির কাঁটা ১১টা পার করলেই ওই দিনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মীকে সরাসরি ‘অনুপস্থিত’ বা অ্যাবসেন্ট বলে গণ্য করা হবে।
আগে বেরোনোর শাস্তি: বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের আগে অফিস চত্বর ছাড়লে তা ‘আর্লি ডিপারচার’ হিসেবে দেখা হবে। যদি কেউ একই দিনে দেরিতে আসেন এবং সময়ের আগে চলেও যান, তবে তাঁর সেই দিনের ক্যাজুয়াল লিভ বা সিএল (CL) কেটে নেওয়া হবে।
৩ দিনের নিয়মে ছুটির কোপ: কোনও কর্মী যদি অফিস থেকে বেরোনোর সময় বায়োমেট্রিক মেশিনে আউট পাঞ্চ করতে ভুলে যান, তবে তিনি ওই দিন অনুপস্থিত ছিলেন বলেই ধরে নেওয়া হবে। এ ছাড়া পুরো মাসের মধ্যে যে কোনও তিন দিন দেরিতে ঢুকলে বা আগে বেরিয়ে গেলে, জমায় থাকা ছুটি থেকে ১ দিনের ক্যাজুয়াল লিভ কেটে নেবে প্রশাসন।
তবে জরুরি বা প্রশাসনিক কাজের খাতিরে কর্মীদের নির্ধারিত সময়ের পরেও দফতরে কাজ করতে হতে পারে। আবার সরকারি মিটিং বা অফিশিয়াল ডিউটির কারণে কারও দেরি হলে, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রধানের লিখিত অনুমোদন থাকলে নিয়মে ছাড় মিলবে।