মার্কিন হামলায় ৩ মৃত্যু: হরমুজে ‘সর্বোচ্চ সতর্কতায়’ নৌসেনা, তৈরি ভারত





নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূরাজনীতিতে এবার সরাসরি বলি হলেন ভারতীয় নাগরিকরা। ওমান উপসাগরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন সেনার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মর্মাণ্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই নজিরবিহীন ঘটনার পরেই সমগ্র উপসাগরীয় অঞ্চল, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালী’ এবং সংলগ্ন সামুদ্রিক এলাকায় ‘হাই অ্যালার্ট’ জারি করেছে সাউথ ব্লক।


গত ১০ জুন ওমানের সোহার উপকূলে ‘এমটি সেত্তেবেলো’ নামক একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে মার্কিন সেনা নিখুঁত নিশানা (প্রিসিশন স্ট্রাইক) করে। জাহাজটিতে মোট ২৪ জন ভারতীয় ক্রু মেম্বার ছিলেন। এই হামলায় তিন ভারতীয়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হতেই ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ক্ষোভ উগরে দিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন ‘চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স’ জেসন মিক্সকে তলব করে বিদেশ মন্ত্রক ইতিমধ্যেই কড়া কূটনৈতিক প্রতিবাদ (ডেমার্শে) জানিয়েছে। একইসঙ্গে এই ধরনের হামলাকে "অত্যন্ত উদ্বেগজনক" বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।


আমেরিকার দাবি, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে ওই জাহাজটি ইরানের তেল পাচার করছিল এবং মার্কিন নৌসেনার নির্দেশ অমান্য করেছিল। উল্টোদিকে, এই হামলাকে 'রাষ্ট্রীয় জলদস্যুতা' বলে তোপ দেগেছে ইরান। আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনও (আইএমও) বেসামরিক নাবিকদের ওপর এই হামলাকে 'সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য' বলে নিন্দা করেছে।


নয়াদিল্লির উদ্বেগ বাড়িয়েছে আরও একটি পরিসংখ্যান। ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আবহে এই নিয়ে পরপর তিনটি ভারতীয় নাবিক বোঝাই জাহাজে হামলা চালাল মার্কিন সেনা। এর আগে ‘এমটি জলবীর’ নামে একটি জাহাজের ইঞ্জিন রুমেও দুটি হেলফায়ার মিসাইল ছোড়া হয়েছিল।


পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ভারতের নৌসেনা এবং জাহাজ মন্ত্রক ওমান উপকূলে ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারি শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল জানিয়েছেন, ভারতীয় নাবিকদের জীবন রক্ষায় সমস্ত বন্ধু রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক এজেন্সির সঙ্গে সমন্বয় রাখা হচ্ছে এবং যে কোনও পরিস্থিতির দ্রুত জবাব দিতে প্রস্তুত ভারত। ওয়াশিংটনের এই আগ্রাসী সামরিক নীতি উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুরক্ষাকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিল।

এই খবরটি শেয়ার করুন